ইরানে জোরালো হচ্ছে পারমাণবিক বোমা তৈরির দাবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রশ্নে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির কট্টরপন্থী মহলে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রকাশ্য ও জোরালোভাবে পারমাণবিক বোমা তৈরির দাবি উঠছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাব বেড়েছে, যা কঠোর অবস্থানের পক্ষে থাকা গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
যদিও ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না এবং এটি ইসলামবিরোধী—তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। অভ্যন্তরীণ আলোচনায় অনেকেই বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মুখে পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।
বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দাবি নতুন করে সামনে আসছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। কট্টরপন্থী রাজনীতিক মোহাম্মদ জাওয়াদ লারিজানি এনপিটি থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ইরান নিজস্ব কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
এমনকি কিছু বিশ্লেষক ও ভাষ্যকার সরাসরি পারমাণবিক বোমা তৈরির পক্ষে মত দিচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক আলোচনায় বলা হয়েছে, ‘ইরানকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—বোমা তৈরি করবে, নাকি অন্য কোনো উপায়ে তা অর্জন করবে।’
তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান তাদের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়নি। দেশটির নীতিনির্ধারণী মহলে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এতদিন ‘থ্রেশহোল্ড স্টেট’ হিসেবে থাকতে চেয়েছে—অর্থাৎ চাইলে দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে সেই পথে যাবে না। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই কৌশল বদলে দিতে পারে।
অন্যদিকে, অতীতে একাধিকবার এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেনি ইরান। ফলে অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান বিতর্কটি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশলও হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ আবারও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ইস্যু নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।