logo

ইয়েমেনে এক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৬ হাজার মানুষ

ইয়েমেনে এক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৬ হাজার মানুষ
ইয়েমেনে তীব্রতর সংঘাতের মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত একটি পরিবার। ছবি: ইউএ

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

সোমবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের সংস্থাটি জানায়, জুনে পশ্চিম উপকূলে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে দেশটির আটটি গভর্নরেটে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩০৮ জন, অর্থাৎ ২৪ হাজার ২১৮টি পরিবার, বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে সোমবার পর্যন্ত এক সপ্তাহে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১৫ হাজার ৮৭০ জন, যা মোট সংখ্যার ১২ শতাংশেরও বেশি।

ইয়েমেনে আইওএমের মিশনপ্রধান আবদুসসাত্তর এসোয়েভ বলেন, “প্রতি সপ্তাহেই আমরা এমন হাজারো মানুষের হিসাব করছি, যারা সবকিছু ফেলে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।”

তিনি বলেন, এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে সন্তানদের নিরাপদ রাখতে ছুটে চলা বাবা-মা, দূরে যেতে অক্ষম বয়স্ক মানুষ এবং এমন পরিবার, যাদের শুরু থেকেই খুব কম সম্পদ ছিল।

“তাদের এখনই সহায়তা প্রয়োজন। আর আমাদের সহায়তার কার্যক্রমও তাদের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে,” বলেন তিনি।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের তাইজ গভর্নরেটে সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে—৮১ হাজার ৪৪৪ জন। এটি দেশের মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের অর্ধেকেরও বেশি এবং এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার বেশি।

এ ছাড়া লাহিজে ৩৪ হাজার ৮৬০ জন, এডেনে ১২ হাজার ৪৫৬ জন, আল হুদায়দাহতে ৮ হাজার ২৪৪ জন, আবিয়ানে ৫ হাজার ৫৬৮ জন, হাদরামাউতে ১ হাজার ৯৭৪ জন, মারিবে ৭৫০ জন এবং আল মাহরায় ১২ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছে।

গত সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এডেনে। সেখানে নতুন করে আরও ৩ হাজার ৫১০ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছে, ফলে ওই অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

এসোয়েভ বলেন, তাইজ, লাহিজ ও এডেনের স্থানীয় জনগোষ্ঠী সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের আশ্রয় দিয়েছে। তবে শুধু স্থানীয় মানুষের সদিচ্ছা দিয়ে প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয়।

বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়, খাবার ও নিরাপত্তা প্রয়োজন বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে যেসব শহর ও এলাকায় তারা আশ্রয় নিচ্ছে, সেসব স্থানীয় জনগোষ্ঠীরও সহায়তা প্রয়োজন।

বেসামরিক নাগরিক ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত পরিবার ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর কাছে নিরাপদ ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে আইওএম। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকলে আগামী দিনগুলোতে আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

ইয়েমেনে ২০১৪ সাল থেকে সংঘাত চলছে। ওই বছর হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা ও বেশ কয়েকটি গভর্নরেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।

সেপ্টেম্বরে সংঘাত আরও তীব্র হয়। হুথিরা আল-হুদায়দাহ ও তাইজ গভর্নরেটের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা শহরও রয়েছে। পাশাপাশি বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে নজর রাখা মায়ুন দ্বীপ পর্যন্ত তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।