logo

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: তীব্র জ্বালানি সংকটে অস্ট্রেলিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: তীব্র জ্বালানি সংকটে অস্ট্রেলিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল তিন রাজ্যে শতাধিক পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে বলে খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নিউ সাউথ ওয়েলসে ৫১টি স্টেশনে পেট্রোল ও ১৬৪টি স্টেশনে ডিজেল শেষ হয়েছে। ভিক্টোরিয়ায় ১০১টি স্টেশনে পেট্রোল ও ৮৩টি স্টেশনে ডিজেল শেষ হয়ে গেছে। কুইন্সল্যান্ডেও ৩২টি স্টেশনে সাধারণ আনলেড পেট্রোল এবং ৪৭টি স্টেশনে ডিজেল শেষ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো কোনো এলাকায় জ্বালানির জোগানের তুলনায় চাহিদা ৪০০ শতাংশ।

এদিকে প্রায় আট বছর ধরে চলা আলোচনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে অস্ট্রেলিয়া। চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়ায় ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ৯৯ শতাংশের বেশি শুল্ক তুলে দেওয়া হবে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানির ওপর প্রায় সব শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা হবে।

পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে দুই পক্ষের মধ্যে আরও একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ইইউর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার চুক্তিটি এমন সময়ে হলো যখন ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সব পক্ষই নিজেদের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দার লেয়েন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইইউ ও অস্ট্রেলিয়া ভৌগোলিকভাবে দূরে হলেও আমাদের বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি একই। নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যে নতুন অংশীদারত্বের মাধ্যমে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে।’

রয়টার্স জানাচ্ছে, এই চুক্তির ফলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো বছরে প্রায় ১০০ কোটি ইউরো শুল্ক সাশ্রয় করবে। এর ফলে আগামী এক দশকে অস্ট্রেলিয়ায় ইইউর রপ্তানি ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, ‘এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে বছরে প্রায় এক হাজার কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার যোগ করবে। আর গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানির ওপর শুল্ক তুলে নেওয়ার ঘটনা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে।’

২০২৫ সালে ইইউ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৭০০ কোটি ইউরো এবং ২০২৩ সালে দেশটির সেবা রপ্তানি ছিল দুই হাজার ৮০০ কোটি ইউরো। ২০২৪ সালে ইইউ ছিল অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দ্বিমুখী বাণিজ্য অংশীদার এবং ষষ্ঠ বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। একই সঙ্গে এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগের উৎস।

এ ছাড়া নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে দুই পক্ষ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বাড়াবে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করবে এবং অনলাইন উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সহযোগিতা জোরদার করবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করে আসছে ইইউ। এরই মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বেইজিং। এই প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চুক্তি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইউরোপের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।

তবে নতুন এ চুক্তি অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কোনো সহযোগিতা করবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়নি সংবাদমাধ্যমে।