logo

বিশ্বজুড়ে ইরানের কত সম্পদ জব্দ

বিশ্বজুড়ে ইরানের কত সম্পদ জব্দ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের বিপুল পরিমাণ সম্পদ দীর্ঘদিন ধরে জব্দ হয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪৭ বছরের এই ইস্যু আবারও আলোচনায় এসেছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আগে ইরান তাদের আটকে থাকা সম্পদ ফেরত চাওয়ার দাবি জোরালো করেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করছে দেশটি।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চিঠি দিয়ে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। তবে এখনও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। খবর বিবিসি বাংলা

কত টাকার সম্পদ জব্দ রয়েছে? 

ইরানের জব্দ সম্পদের সঠিক কোনো নির্দিষ্ট হিসাব নেই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণ উঠে এসেছে। যেমন-

  • ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার প্রথম দফায় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার জব্দ করেন (কিছু অনুমান অনুযায়ী, ওই সময় মোট জব্দ সম্পদের পরিমাণ ছিল ৮ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার)
  • ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের বিদেশে আটকে থাকা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছিলেন, পরে তা ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনেন
  • একই সময়ে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার

অর্থাৎ, বিভিন্ন সময়ের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের জব্দ সম্পদ কয়েক দশক ধরে কয়েক দশ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করেছে।

কোথায় এবং কী ধরনের সম্পদ

এই সম্পদের মধ্যে রয়েছে তেল বিক্রির রাজস্ব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এবং বিদেশে থাকা বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পদ। 

বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে এসব অর্থ জমা ছিল। যেমন সিটি ব্যাংক, চেজ ম্যানহাটন, এইচএসবিসি, বার্কলেসসহ বড় আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ইরানের আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় নিষেধাজ্ঞার কারণে।

চুক্তি, শিথিলতা এবং আবার জব্দ

১৯৮১ সালের আলজিয়ার্স চুক্তির মাধ্যমে কিছু অর্থ ফেরত পেলেও পুরোটা নয়। প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হয়, যা মোট জব্দ সম্পদের তুলনায় অনেক কম।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি বা জেসিপিওএর মাধ্যমে ইরান প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার ব্যবহারের সুযোগ পায়। কিন্তু ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে সরে গেলে আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয় এবং সম্পদগুলো পুনরায় জব্দ হয়ে যায়।

সাম্প্রতিক উদাহরণ: কাতারে ৬ বিলিয়ন ডলার

২০২৩ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হয়। তবে এই অর্থ কেবল খাদ্য, ওষুধ ও মানবিক কাজে ব্যবহারের শর্ত ছিল।

পরবর্তীতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও এই অর্থ ব্যবহারে বাধা দেয়। ফলে এটি কার্যত ইরানের নাগালের বাইরে রয়ে যায়।

ক্ষয়ক্ষতির দাবি

ইরান শুধু জব্দ সম্পদ ফেরতই নয়, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্যও ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। দেশটির হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

সামনে কী হতে পারে

ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, জব্দ সম্পদ ফেরত পাওয়া তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এই বিষয়টি সমাধান না হলে বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে, কয়েক দশক ধরে ইরানের জব্দ সম্পদের পরিমাণ বিশাল এবং জটিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে এই অর্থের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হচ্ছে।