Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইয়ামালের ছবি-সংবলিত ড্রোন ছুড়ল ইরান!

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইয়ামালের ছবি-সংবলিত ড্রোন ছুড়ল ইরান!
ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোনে ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে স্প্যানিশ ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামাল। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

স্পেন ফুটবল দলের বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের পর পুরো বিশ্বের নজর এখন তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের দিকে। তবে ফুটবল মাঠের সেই উন্মাদনা ও আবেগ যে এবার মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়বে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলাই চালানোর ঠিক আগমুহূর্তে এক ইরানি ‘শাহেদ’ ড্রোনের গায়ে দেখা গেছে স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিন ইয়ামালের ফিলিস্তিনি পতাকাধারী ছবি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ড্রোন স্কোয়াডের একটি দূরপাল্লার আত্মঘাতী ‘শাহেদ’ ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উৎক্ষেপণের ঠিক আগমুহূর্তে দেখা যায়, ড্রোনের মূল অংশের সামনের ডানায় সেঁটে দেওয়া হয়েছে ১৯ বছর বয়সি স্প্যানিশ ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামালের একটি বাঁধাই করা ছবি।

ছবিটিতে ইয়ামালকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে একটি ছাদখোলা বাসের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মূলত গাজায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সরাসরি সংহতি প্রকাশের কারণেই ড্রোনটির গায়ে ইয়ামালের এই ছবি যুক্ত করেছেন ইরানি সেনাসদস্যরা।

সম্প্রতি স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর ইয়ামালের ট্রফি উদ্‌যাপনে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল অবরুদ্ধ গাজার সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। তবে এর আগেও ফিলিস্তিনের পক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন এই উদীয়মান ফুটবল তারকা।

গত ১১ মে বার্সেলোনার টানা দ্বিতীয় লা লিগা শিরোপা উদ্‌যাপন উপলক্ষে শহরজুড়ে আয়োজিত খোলা বাসের শোভাযাত্রায় প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান ইয়ামাল। দৃশ্যটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

তবে এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তিনি অভিযোগ করেন, ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা উসকে দেওয়ার’ পথ বেছে নিয়েছেন।

এর জবাবে সরাসরি ইয়ামালের পাশে দাঁড়ান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের শুরু থেকেই কড়া সমালোচক এবং একে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দেওয়া সানচেজ ইয়ামালের বাক্‌স্বাধীনতা ও ফিলিস্তিন সমর্থনের অধিকারকে সমর্থন জানান।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্পেন ও ইসরায়েলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ২০২৪ সালে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলে মাদ্রিদ থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয় ইসরায়েল। এর জের ধরে চলতি বছরের মার্চে তেল আবিব থেকে নিজেদের শীর্ষ কূটনীতিককে ফিরিয়ে আনে স্পেন সরকারও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি বাহিনীর ক্রমাগত শাহেদ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের মাঝেই এই ভিডিওটি প্রকাশ করল প্রেসটিভি।

বিশ্বকাপ ফুটবলের বৈশ্বিক উন্মাদনা, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি এবং ভূরাজনীতির চরম উত্তেজনার এক অদ্ভুত ও অভূতপূর্ব মিশ্রণ দেখা গেল এই ঘটনায়; যা মার্কিন-ইরান চলমান সংঘাতকে মানসিকভাবে নতুন এক মাত্রায় নিয়ে গেল বলে মত তাদের।