মদিনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলায় ওআইসি ও আরব দেশগুলোর নিন্দা

মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলাটির জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, মদিনার তায়বা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
ওআইসির মহাসচিবালয় এক বিবৃতিতে হামলাটিকে ‘তীব্র নিন্দা’ জানায়। সংস্থাটি বলেছে, মদিনার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনায় হামলা একটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ এবং পবিত্র স্থানের মর্যাদা লঙ্ঘনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও মানবিক আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী।
ওআইসি সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে দেশটির ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং ইসলামি পবিত্র স্থান ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
ইউএই, জর্ডান ও কুয়েতের নিন্দা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ড্রোন হামলা সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। আবুধাবি সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশটির নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জর্ডানও হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে সৌদি সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফুয়াদ মাজালি বলেন, হামলাটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদেরও লঙ্ঘন।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মসজিদে নববীর সেবা দেওয়া বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক ‘শত্রুতামূলক হামলার’ অংশ। এ ধরনের হামলা সৌদি সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে দেশটি।
কুয়েত আরও বলেছে, এ ধরনের ঘটনা বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত করে এবং ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা কুয়েত ও অন্যান্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সদস্য দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত বলে উল্লেখ করেছে দেশটি।
বাহরাইনের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পদক্ষেপের আহ্বান
বাহরাইন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের ‘ধারাবাহিক হামলার’ নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ী নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
একই সঙ্গে হুতিদের হামলার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে এবং সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাহরাইন। এর মধ্যে ২০১৫ সালের প্রস্তাব ২২১৬ এবং ২০২৬ সালের প্রস্তাব ২৮১৭-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি জোটের দাবি
এর আগে বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, মদিনার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, হামলাটি ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোরে ঘটে।
তার দাবি, হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো প্রভাব পড়েনি। তদন্তের ফলাফল, অভিযানসংক্রান্ত তথ্য এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষার ভিত্তিতে হুতিদের হামলা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আল-মালিকি আরও অভিযোগ করেন, হুতিরা মসজিদে নববীকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দুই পবিত্র মসজিদকে লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত হুতিদের পক্ষ থেকে সৌদি জোটের এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে। জোটের দাবি ছিল, ড্রোনটি শহরের নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়।
