জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ ও পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, আলোচনায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রসঙ্গ

জেদ্দায় এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এসপিএ জানায়, বর্তমানে পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে দুই নেতার বৈঠকে বিস্তারিত আলাপ হয়।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেন সৌদি যুবরাজ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বার্তা নিয়ে বর্তমানে ইরান সফর করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার আলোচনার সময় নির্ধারণে তিনি সেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে এখনও এ আলোচনার সঠিক সময় জানা যায়নি।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ইরান সফরের মূল লক্ষ্য হলো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার উপযুক্ত সময় নির্ধারণ। এছাড়া চলমান যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা পুনরায় শুরু করা অসম্ভব। এ ছাড়া দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখছে তেহরান।
ইরানি সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই দ্বিতীয় দফার আলোচনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পাকিস্তান এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বন্দ্ব ও সমস্যাগুলো নিরসনে পাকিস্তান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে বর্তমানেও সক্রিয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, ‘দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনও বলবৎ আছে। তবে কিছু অমীমাংসিত ইস্যু রয়ে গেছে যা সমাধান করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।’