Advertisement

সিএনএনের প্রতিবেদন/আজারবাইজান থেকেও ইরানে হামলা চালাত ইসরায়েল

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আজারবাইজান থেকেও ইরানে হামলা চালাত ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালে প্রায় ২ হাজার ২৯৭ কিলোমিটার দূরে আজারবাইজানে গোয়েন্দা অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। আজারবাইজান-ইরান সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজ শহর থেকে প্রায় ৯৬ কিলোমিটার দূরের একটি স্থানে কয়েক ডজন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনা ও মোসাদ এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছিল।

Advertisement

শুক্রবার (৫ জুন) একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, বিশেষ কমান্ডো ইউনিটগুলোকেও সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল। তারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ড্রোন অভিযান চালায়, যার ফলে যুদ্ধের সময় ইসরায়েল উত্তর ইরানের ভেতরের পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করার গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছিল।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, আজারবাইজানের অভ্যন্তর থেকে ইসরায়েলের চালানো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযান ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিশেষ অভিযান বিভাগের কমান্ডার রহমান মোগাদ্দামকে হত্যা করা। তিনি ইরানের ভেতরে ও বাইরে কর্মী নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।

একটি সূত্রের দাবি, আজারবাইজান থেকে পরিচালিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে গত ৪ মার্চ নিহত হন রহমান মোগাদ্দাম। ইসরায়েলের অভিযোগ, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। এর পরদিন আজারবাইজানের নাখচিভান অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা হয়। এতে একটি টার্মিনাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন আহত হন।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে এটিকে ‘কাপুরুষোচিত ও নির্লজ্জ’ সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যা দেন। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এর দুই দিন পর, ৬ মার্চ আজারবাইজানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা জানায়, তারা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং ইসরায়েলি ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার একটি আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে। কয়েক সপ্তাহ পরে ইসরায়েল প্রকাশ্যে স্বীকার করে যে এটি ছিল মোসাদ, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং শিন বেতের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি যৌথ অভিযান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজারবাইজানে মোতায়েন করা সৈন্যদের প্রাথমিকভাবে ইরানের আকাশে ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় একটি জরুরি উদ্ধারকারী দল হিসেবে কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু পরে এই অভিযানের পরিধি বাড়িয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ড্রোন অভিযানও অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, আজারবাইজানে থাকা এসব অবস্থান ইসরায়েলের বিভিন্ন দেশের গোপন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোর একটি অংশ। এসব স্থাপনা ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সোমালিল্যান্ডেও রয়েছে।

শুরুতে এগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য পরিকল্পনা করা হলেও, পরে সেগুলোর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়ে সামরিক ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে।

নজরদারি ডিভাইসগুলো স্থাপনের অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী স্টিলথ জেট ও বিশেষ বাহিনী ব্যবহার করেছিল। কারণ ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতারা বিশ্বাস করতেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হবেই হবে।

গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের এই কেন্দ্রের মাধ্যমে ইরানের সামরিক গতিবিধি ও স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করর ইসরায়েল। একইসঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগাম সতর্কতাও পেতে তেলআবিব।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত আজারবাইজানের দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ‘তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে অভিযানে আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহারের কথিত ভিত্তিহীন দাবি’ প্রত্যাখ্যান করে।

ইরান ঘিরে বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি ঘাঁটি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বাহিনী ইরাকে দুটি গোপন ঘাঁটি ব্যবহার করত। এসব ঘাঁটি রসদ সরবরাহের অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে কাজ করত এবং প্রয়োজনে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সুযোগ দিত।

ইরাকে এমন দুটি স্থাপনার তথ্য প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং নিউইয়র্ক টাইমস। তবে ইরাকের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মার্চের শুরু পর্যন্ত দেশটিতে কোনো ‘অননুমোদিত ঘাঁটি বা বাহিনী’ ছিল না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রথম প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইসরায়েল গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি ও তা পরিচালনার জন্য সৈন্যসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করেছিল।

এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল, যুদ্ধের সময় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, মোসাদের প্রধান ও ইসরায়েলের সামরিক প্রধান সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন। এই তথ্য প্রকাশের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত এই সফরের বিষয়টি জোরালোভাবে অস্বীকার করে।

সূত্রগুলোর দাবি, সোমালিল্যান্ডেও একটি সামরিক অবস্থান গড়ে তুলেছে ইসরায়েল। যেটি ইরানের দিকে যাওয়া ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য জ্বালানি ভরার সুবিধা দিতে পারে।

গত ডিসেম্বরে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে।