logo

হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পেল মালয়েশিয়ার জাহাজ

হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পেল মালয়েশিয়ার জাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মাঝে মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক টেলিভিশন ভাষণে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান। তেহরান কর্তৃক কার্যত বন্ধ করে রাখা এই জলপথ দিয়ে মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে আগাম ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য তিনি এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়ছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। 

আনোয়ার বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার তেল ট্যাংকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মুক্তি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি, যাতে তারা তাদের স্বদেশের পথে যাত্রা চালিয়ে যেতে পারে।

তবে কতগুলো জাহাজ এই ছাড়পত্র পেয়েছে বা কী শর্তে তাদের নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনোয়ার বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

আন্তর্জাতিক বিষয়ে ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করা মালয়েশিয়া সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেনি। আনোয়ার জানান, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মালয়েশিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনাসের সক্ষমতার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এলএনজি সরবরাহকারীদের মধ্যে অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও মালয়েশিয়া তার অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে। জ্বালানি সাশ্রয় করতে আনোয়ারের সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভর্তুকিযুক্ত পেট্রোলের মাসিক কোটা কমানো এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম বা বাসা থেকে কাজের ব্যবস্থা করা।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সাথে যুক্ত নয় এমন জাহাজগুলোর জন্য প্রণালিটি উন্মুক্ত। তবে তেহরান এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণের অধিকার দাবি করেছে এবং এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ২০টি নথিভুক্ত হামলার মধ্যে অন্তত দুটির দায় স্বীকার করেছে। 

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট এই প্রণালিতে টোল বা শুল্ক ব্যবস্থা চালুর আইন করার চেষ্টা করছে। খবর পাওয়া গেছে, নিরাপদ যাতায়াতের গ্যারান্টি হিসেবে ইরানি কর্তৃপক্ষ জাহাজ প্রতি ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত দাবি করছে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড-এর মতে, বুধবার অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে পাঁচটি জাহাজকে প্রণালিটি অতিক্রম করতে দেখা গেছে। যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ চলাচল করত।