logo
Advertisement

ইসরায়েলের পূর্ণ সমর্থনে গাজায় লাখ লাখ ডলার পাঠিয়েছিল কাতার: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের পূর্ণ সমর্থনে গাজায় লাখ লাখ ডলার পাঠিয়েছিল কাতার: নেতানিয়াহু
এক সমর্থকের সঙ্গে সেলফি তুলছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: আলজাজিরা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তার নামে কাতার যে লাখ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছিল, তাতে ইসরায়েলের পূর্ণ সমর্থন ছিল। এ জন্য সুপারিশ করেছিল গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত।

Advertisement

তবে ওই আর্থিক সহায়তা ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল বলে যে অভিযোগ, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ইসরায়েলি আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছেন, কাতার ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র। তারা গাজায় সামরিক অভিযান চলাকালে কাতার ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণ করার অধিকার রাখে না। এ সময় তিনি কাতারে বিমান হামলা চালানোর বিষয়ে প্রকাশ্যে দম্ভ প্রকাশ করেছেন।

দম্ভভরে নেতনিয়াহু বলেন, ‘আমি কাতারে আক্রমণ করেছি, যুদ্ধের সময় তাদের ওপর বোমা ফেলেছি। আর তারাও আমাকে আক্রমণ করেছিল।’

সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গাজায় কাতারের লাখ লাখ ডলার মানবিক তহবিল স্থানান্তরের বিষয়টি ডিফেন্ড বা সমর্থন করেন। তিনি বলেন, এই অর্থ ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশের ভিত্তিতে শতভাগ মানবিক উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল। এই অর্থ গাজায় আসা মোট তহবিলের মাত্র দুই শতাংশ ছিল।

অভ্যন্তরীণ সমালোচকরা এই অর্থ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের সামরিক হামলায় ব্যবহৃত হওয়ার যে অভিযোগ তুলেছেন, তা নাকচ করে দিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানিও।

গত বছরের দোহা ফোরামে তিনি বলেন, ‘আজ যখন তারা [ইসরায়েল] দাবি করছে যে, ওই সহায়তা হামাসকে কাতারের অর্থায়ন, তার কোনো ভিত্তি নেই।’ তিনি স্পষ্ট করেন, গাজার সাধারণ মানুষের কাছে সমস্ত সাহায্য সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পৌঁছানো হয়েছে।

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতির ত্রিপক্ষীয় আলোচনা চলাকালে ইসরায়েল আকস্মিক বিমান হামলা চালায়। হামাসের পাঁচজন সদস্য ও কাতারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহতের ওই ঘটনার বর্ষপূর্তির মাত্র কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুর সাক্ষাৎকারটি সামনে এলো।

তৎকালীন সেই হামলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে দোহা একে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছিল। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি ‘কাপুরুষোচিত’ হামলা বলে আখ্যা দেন। পরে ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা কাতার ২০১২ সাল থেকে নিজেদের দেশে হামাসকে তাদের রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপনের সুযোগ দেয়। কাতারের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারণায় গাজা যুদ্ধ, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং ইরানকেন্দ্রিক উত্তেজনার বিষয়টি মূল এজেন্ডা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ও জাতীয়তাবাদী ভোটারদের সমর্থন বাড়াতেই নেতানিয়াহু অন্যান্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য ও উত্তেজনা বাড়িয়ে চলছেন।