logo
চীনা মিডিয়ার দাবি

বেইজিংয়ে পুতিন যেন নিজের বাড়িতেই আছেন

বেইজিংয়ে পুতিন যেন নিজের বাড়িতেই আছেন
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিন, পুতিনের গায়ের কোট খোলার দৃশ্য ( ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

দুই দিনের সফরে চীন গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পুতিনের এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে চীনা মিডিয়াগুলো।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বেইজিংয়ে পৌঁছে পুতিনের চালচলন দেখে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে, তিনি যেন নিজের বাড়িতেই আছেন।

সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে বিমানবন্দর ছাড়ার আগে পুতিন অত্যন্ত সাধারণ ভঙ্গিতে তার গায়ের কোটটি খুলে গাড়িতে ওঠেন। রুশ প্রেসিডেন্টের এই কোট খুলে ফেলার ঘটনা কেন্দ্র করে এখন নানা আলোচনা চলছে চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে।

ওয়েইবোতে একটি হ্যাশট্যাগ এখন সর্বোচ্চ ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। হ্যাশট্যাগটির অর্থ— ‘একেবারে নিজের বাড়ির মতো মনে করে পুতিন তার কোট খুলে ফেললেন’।

এ সম্পর্কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চীনের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম চায়না নিউজ সার্ভিস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে তারা এর পেছনের সাংস্কৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করে লিখেছে, রুশ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী, মানুষ সাধারণত ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার সময় কিংবা কোনো অনানুষ্ঠানিক ও আরামদায়ক পরিবেশে গেলে নিজের গায়ের কোট খুলে ফেলে। অর্থাৎ, কোনো পরিবেশ যখন নিজের কাছে খুব নিরাপদ ও স্বস্তির মনে হয়, তখন একজন রুশ নাগরিক এই আচরণ করেন।

চীনা সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, পুতিনের সাধারণ অঙ্গভঙ্গি মূলত বেইজিংয়ের প্রতি তার গভীর স্বস্তি, আস্থা ও পরিচিতির বহিঃপ্রকাশ।

আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও ছোট মুহূর্তটি বেইজিং ও মস্কোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর করেছেন। ট্রাম্পের চীন সফরের মাত্র চার দিন পর বেইজিংয়ে গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। চীনে এটি তার ২৫তম চীন সফর। বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্র হিসেবে বেইজিংয়ের বাড়তে থাকা প্রভাব ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার বেইজিং বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

পুতিনের দুই দিনের সফর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপস্থাপন। দুই নেতা এখন পর্যন্ত ৪০ বারের বেশি বৈঠক করেছেন, যা কোনো পশ্চিমা নেতার সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠকের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি।