logo

ইসরায়েলে যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে আমেরিকা, ইরানে নতুন হামলার শঙ্কা

ইসরায়েলে যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে আমেরিকা, ইরানে নতুন হামলার শঙ্কা

ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ৪৫ মিনিটের এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন।

ব্রিফিং এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইসরায়েলে ৬ হাজার টনেরও বেশি যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। এর ফলে এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে যে, অচলাবস্থা নিরসনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো ইরানে বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দ্য ইসরায়েল টাইমস ও দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬ হাজার ৫০০ টন (৬৫ লাখ কিলোগ্রাম) আকাশ ও ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য যুদ্ধাস্ত্র, সামরিক ট্রাক, জয়েন্ট লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকল (জেএলটিভি) এবং অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ও বেশ কয়েকটি বিমান ইসরায়েলে এসে পৌঁছেছে।

জানা গেছে, ইসরায়েলি মন্ত্রণালয়ের প্রতিরক্ষা ক্রয় অধিদপ্তর তাদের আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বিভাগ, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত মিশন ও আইডিএফ পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে মার্কিন অভিযানটির নেতৃত্ব দিয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টন সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ৪০৩টি আকাশপথে ও ১০টি সমুদ্রপথে পরিবহনের মাধ্যমে ১ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টনেরও বেশি সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছে।’

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুসারে, সেন্টকম ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য একটি নতুন পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সেন্টকম যে পরিকল্পনাগুলো বিবেচনা করছে তার মধ্যে একটি হলো ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্পমেয়াদী ও শক্তিশালী’ ধারাবাহিক হামলা চালানো। এতে সম্ভবত দেশটির অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হবে। 

এর মাধ্যমে তেহরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মার্কিন বাহিনী আশা করছে, বোমা বর্ষণের ফলে শান্তি আলোচনার সময় ইসলামি প্রজাতন্ত্র পারমাণবিক ইস্যুতে আরও নমনীয়তা প্রদর্শন করবে।

সেন্টকম ট্রাম্পের সঙ্গে যে আরেকটি পরিকল্পনা শেয়ার করেছে, তার মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে সেটিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া। তবে প্রতিবেদন অনুসারে, এই ধরনের অভিযানে স্থলবাহিনীরও প্রয়োজন হতে পারে।

জানা গেছে, ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধকে তেহরানের বিরুদ্ধে দর কষাকষির প্রধান উৎস হিসেবে দেখছেন। কিন্তু সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান এরপরও নতি স্বীকার না করলে তিনি সামরিক পদক্ষেপের কথাও বিবেচনা করতে পারেন।

তৃতীয় বিকল্পটি হলো ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সুরক্ষিত করার জন্য একটি বিশেষ বাহিনীর অভিযান। ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে একটি আসন্ন হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তেহরানের ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পেছনে এটিই ছিল অন্যতম প্রধান কারণ।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুসারে, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ট্রাম্পের সঙ্গে সেন্টকমের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক ইরান আক্রমণের দুই দিন আগেও কুপার ট্রাম্পকে একই ধরনের একটি ব্রিফিং দিয়েছিলেন।

ইরানের উদ্বেগ

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সতর্ক করেছেন যে, আলোচনা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র আবারও তেহরানে হামলা চালাতে পারে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে’।

বেলারুশীয় প্রতিপক্ষ আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে এক ফোনালাপে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের দায়বদ্ধতার সঙ্গে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের প্রচেষ্টা সবসময়ই আলোচ্যসূচিতে ছিল।

রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভিতে প্রচারিত এক মন্তব্যে তিনি বলেন, কিন্তু আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল) দুইবার ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের পূর্ণ অবিশ্বাস জন্ম নিয়েছে।