logo

‘ভাঙছে না, বরং বদলে যাচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা’

‘ভাঙছে না, বরং বদলে যাচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা’

বিশ্বব্যবস্থা বদলে যাচ্ছে, তবে ভেঙে পড়ছে না বলে মতপ্রকাশ করেছেন বিশ্ব অর্থনৈতিক নেতারা।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম সম্মেলনে এ কথা বলেন। এ সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দেওয়া বক্তব্যকে তারা প্রত্যাখ্যান করেন। খবর রয়টার্সের

এর আগে ডাভোসে কার্নি বলেন, বড় শক্তিগুলোর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে একটি নতুন বৈশ্বিক শৃঙ্খলা গড়ে উঠছে। কার্নি দেশগুলোকে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং বড় শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক চুক্তি মানার ভানও আর করছে না।

প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব এমন এক যুগে প্রবেশ করছে যেখানে ‘শক্তিশালীরা তাদের ক্ষমতা অনুযায়ী সবকিছু করতে পারে, আর দুর্বলদের ভাগ্যে থাকে কেবল সহ্য করা।

তবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাপতি ক্রিস্টিন লাগার্ড এই বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত নন। ডাভোসে কার্নির বক্তব্যের কয়েকদিন পর তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত নই যে আমাদের ভাঙনের কথা বলা উচিত। বরং আমাদের বিকল্প পথ নিয়ে কথা বলা দরকার। আমাদের দুর্বলতা, নির্ভরশীলতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নগুলো আরও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়ালা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ার পর বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা চরমে পৌঁছেছে।

তার মতে, পুরোনো বৈশ্বিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না, অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হবে, এবং দেশগুলোকে নিজেদের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে বিনিয়োগ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা আগের অবস্থায় ফিরব না। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি হয়তো কিছুটা স্থিতিশীল ও উন্নত হতে পারে। আমি যদি একটি দেশ পরিচালনা করতাম, তাহলে নিজেকে এবং আমার অঞ্চলকে শক্তিশালী করতাম, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতাম এবং স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতাম।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা ‘উইজার্ড অব অজ’ চলচ্চিত্রের একটি বিখ্যাত সংলাপ ‘আমরা আর কানসাসে নেই’ উদ্ধৃত করেন। এর অর্থ হলো পরিচিত ও আরামদায়ক পরিবেশ চিরতরে চলে গেছে। তিনি বলেন, পরিবর্তন স্বাভাবিক এবং এটি বহু বছর ধরেই ঘটছে।  

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের ইউরোপবিরোধী বক্তৃতার সময় ডাভোসের নৈশভোজ থেকে বেরিয়ে আসা লাগার্ড শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) আরও সংযত ও বাস্তববাদী সুরে কথা বলেন। এরই মধ্যে কলম্বিয়া ইকুয়েডরের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি স্থগিত করেছে এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানি করা ২০টি পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।

লাগার্ড বলেন, গত কয়েকদিনে ইউরোপীয়দের বিরুদ্ধে প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু যদি কিছু হয়, তাহলে এই সমালোচনাই আমাদের বাস্তবতা বুঝতে সাহায্য করেছে। আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে, আমাদের ‘প্ল্যান বি’তে কাজ করতে হবে।