শক্তিশালী ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল রাশিয়ার কামচাতকা

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কামচাতকা উপদ্বীপে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের অনেক গভীরে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সুনামির কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবরও পাওয়া যায়নি।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্রের (ইএমএসসি) হিসাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.০। ইএমএসসি এবং ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, তখন সকাল ৯টা ৩৫ মিনিট।
ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কামচাতকার ওজেরনোভস্কি উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৭৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং আঞ্চলিক রাজধানী পেত্রোপাভলভস্ক-কামচাতস্কি থেকে প্রায় ১৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
গভীরে উৎপত্তি, সুনামির সতর্কতা নেই
ভূতাত্ত্বিকদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১২৮ থেকে ১৪৩ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের এই গভীরতার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র (পিটিডব্লিউসি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
তীব্র কম্পনে আতঙ্ক, ঘর ছেড়ে বাইরে বাসিন্দারা
ভূমিকম্পের প্রভাবে কামচাতকা উপদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। বিশেষ করে পেত্রোপাভলভস্ক-কামচাতস্কি শহর ও আশপাশের এলাকায় বাসিন্দারা তীব্র ঝাঁকুনি টের পান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কম্পন প্রায় এক মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময় বহুতল ভবনগুলো দুলতে থাকায় আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় চলে আসেন। ঘরের ভেতরে আসবাবপত্র ও ঝাড়বাতি দুলতে থাকে। আলমারিতে রাখা থালাবাসনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রও কেঁপে ওঠে।
রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধারকারী দলগুলো বিভিন্ন সামাজিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা অবকাঠামো পরীক্ষা করে। প্রাথমিক মূল্যায়নে বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বা গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কামচাতকা উপদ্বীপ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর অন্তর্ভুক্ত। এটি বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল, যেখানে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
