ঘুমিয়ে ১৭ লাখ টাকা জিতলেন নারী!

ঘুম নিয়েও যে প্রতিযোগিতা হতে পারে, তা দেখিয়ে দিল জাপান। দেশটির রাজধানী টোকিওয়ে আয়োজন করা হয়েছিল ঘুমের প্রতিযোগিতা। আর তাতেই বাজিমাত করেছেন কেউ কেউ। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে ১৪ হাজার ডলার (১৭ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৩ টাকা) জিতেছেন এক জাপানি নারী। তার নাম সুইমি। বিজয়ীর জন্য প্রায় ২০ লাখ ইয়েন পুরস্কার হিসেবে বরাদ্দ করেছিল আয়োজকরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেশ কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে জয়ের পর ওই নারী বলেন, ‘আমি নিজের মতো করে থাকতে চাই। তাই মনে হয়, পুরস্কারের টাকা বাসা বদলের খরচে ব্যবহার করব। আমি রাজকুমারীর মতো একটি বিছানাও চাই। তাই মনে হয়, সেই বিছানাটিই কিনব।’
সংবাদমাধ্যম জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিশ্রমী কিন্তু ক্লান্ত জাপানে, নিজেদের ‘প্রতিযোগিতামূলক ঘুমের’ অভিজাত খেলোয়াড় বলে পরিচয় দেয়া ব্যক্তিরা দ্রুত ও গভীরভাবে শুয়ে আরাম করে ঘুমিয়ে পড়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। একটি ম্যাট্রেস কোম্পানি এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
টোকিওতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার নাম ‘ম্যাট রেস’। গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় কয়েক ডজন অংশগ্রহণকারীর শরীরে ঘুম পর্যবেক্ষণকারী যন্ত্র লাগানো হয়। এরপর তারা আরামদায়ক ম্যাট্রেসে শুয়ে সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট ঘুমান। প্রতিযোগিতার শীর্ষ পুরস্কার ছিল ২০ লাখ ইয়েনের বেশি (১৪ হাজার ডলার)। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৩ টাকা।
মৃদু আলোয় ভরা একটি কক্ষে অংশগ্রহণকারীরা মাথায় মনিটর লাগিয়ে ঘুমান। তাদের কেউ কেউ বিছানায় নরম খেলনা বুকে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। কত দ্রুত ও গভীরভাবে ঘুমানো যাচ্ছে, তার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।
প্রতিযোগিতাটির পরিকল্পনা তদারকির দায়িত্বে থাকা ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর রিইচিরো নাকামা বলেন, ‘জাপানকে প্রায়ই ঘুমের ঘাটতিতে ভোগা একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আর এখানকার মানুষ খুবই পরিশ্রমী। এটিকে এ ধরনের একটি আয়োজনে পরিণত করার মাধ্যমে আমার মনে হয়, আমরা মানুষকে একসঙ্গে ঘুমানোর সুযোগ দিতে পারব এবং ঘুমের বিষয়ে আগ্রহ বাড়াতে পারব।’
অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের মানুষ দিনে গড়ে ৭ ঘণ্টা ২৪ মিনিট ঘুমান। সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যাতায়াতে বেশি সময় ব্যয় এবং রাতের ব্যস্ত বিনোদন অর্থনীতিকে এর পেছনের কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিযোগী চিসাতো হোন্ডা (৩২) বলেন, ‘চোখের পলকেই সব শেষ হয়ে গেল। আমার মনে হচ্ছে, আরেকটু বেশি সময় ঘুমাতে পারলে ভালো হতো। এটি ছিল আনন্দের একটি প্রতিযোগিতা।’
