স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফে সজ্জিত হলো পবিত্র কাবা

ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুসারে হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮-এর প্রথম দিনে পবিত্র কাবাঘরে উন্মোচন করা হয়েছে নতুন গিলাফ (কিসওয়া)। সোমবার (১৫ জুন) স্থানীয় সময় এশার নামাজের পর সৌদি আরবের ঐতিহ্য অনুযায়ী অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে কাবার এই নতুন পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছে।
সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে মক্কার পবিত্র কাবাঘরকে একটি নতুন কিসওয়া (পবিত্র গিলাফ) দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।
গ্র্যান্ড মসজিদ ও নবীর মসজিদের বিষয়াবলি দেখভালের দায়িত্বে থাকা কিং আবদুল আজিজ কিসওয়া কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধানে সোমবার রাত থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই ধাপে পুরোনো কিসওয়ার সঙ্গে যুক্ত স্বর্ণখচিত অলংকরণ, আলংকারিক উপাদান, বাতি ও অন্যান্য সজ্জা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাবা শরিফের দরজার পর্দাও নামানো হয়েছে।
পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চমানের নিরাপত্তা মান অনুসরণ করা হয়েছে। প্রস্তুতকৃত নতুন গিলাফটি বিশেষ ব্যবস্থায় কমপ্লেক্স থেকে গ্র্যান্ড মসজিদে স্থানান্তর করা হয়। এই কাজে নিয়োজিত রয়েছেন দক্ষ সৌদি কারিগর ও প্রযুক্তিবিদদের একটি বিশেষ দল।
সৌদি গেজেট অনুসারে, গিলাফ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে উন্নতমানের কাঁচামাল। এতে রয়েছে প্রায় ৮২৫ কেজি প্রাকৃতিক রেশম, বাইরের অংশের জন্য ৪৭ রোল কালো রেশম, ভেতরের আস্তরণের জন্য ৪০০ কেজি কাঁচা তুলা, সূচিকর্মের জন্য ৬০ কেজি খাঁটি রূপা এবং পবিত্র আল-কোরআনের আয়াত ও নকশার জন্য ব্যবহৃত ১২০ কেজি সোনার প্রলেপযুক্ত রূপা।
জানা গেছে, দেশটির আল জৌদ এলাকার কিং আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্সে অত্যন্ত সূক্ষ্ম বুননে তৈরি করা হয় এই গিলাফ। এটি তৈরিতে শতাধিক দক্ষ শিল্পীর সময় লেগেছে প্রায় ১১ মাস। ঐতিহ্যবাহী সাত ধাপে তৈরি করা এই কিসওয়াতে ৪৭ টুকরা দামি রেশম (সিল্ক) কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে।
ধাপগুলো হলো রঞ্জন, যন্ত্রে বয়ন, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা, মুদ্রণ, সূচিকর্ম, হাতে বয়ন এবং সংযোজন। সব ধাপ শেষে সূচিকর্ম করা অংশগুলো একত্র করে সম্পূর্ণ গিলাফ প্রস্তুত করা হয়।
নতুন এই গিলাফের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ওপর খোদাই করা কোরআনের ৬৮টি আয়াত। ক্যালিগ্রাফিগুলো ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ১২০ কেজি ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ ও ১০০ কেজি রুপার সুতা। পুরো গিলাফটির মোট ওজন প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কিলোগ্রাম।
তবে এসব উপকরণগুলো ব্যবহার করার আগে কঠোর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নেওয়া হয় এর কাঁচামালগুলোকে, যাতে প্রতিকূল আবহাওয়রার মধ্যে স্থায়িত্ব ও গুণগতমান নিশ্চিত করা যায়। পরীক্ষাগারে যাচাইয়ের পর কাপড়ে কোরআনের আয়াত ও ইসলামিক নকশা স্থানান্তর করা হয়। সোনালি ও রূপালি সুতা ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁত হাতে তৈরি সূচিকর্মে গিলাফকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়।
পবিত্র কাবার এই নতুন রূপ দেখার জন্য সোমবার রাত থেকেই মসজিদুল হারাম প্রাঙ্গণে ভিড় জমিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। নতুন গিলাফ বা কিসওয়া একবার স্থাপন করা হলে পরবর্তী বছর পর্যন্ত সেখানেই রাখা হয়। পরবর্তী হিজরি নববর্ষ এলে ফের পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ স্থাপন করা হয় পবিত্র কাবাঘরে।
