logo
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধেও সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার তেল রাজস্ব পেল ইরান

আনাদোলু এজেন্সি
আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধেও সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার তেল রাজস্ব পেল ইরান
হরমুজ প্রণালির জলসীমায় ইরানের পতাকা, পেছনে তেলবাহী জাহাজ। ছবি: এক্স

আঞ্চলিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেই তেল বিক্রির বড় রাজস্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা করেছে ইরান। চলতি ইরানি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (২১ মার্চ থেকে ২২ জুলাই) ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন (৭৫০ কোটি) ডলার রাজস্ব পেয়েছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র।

Advertisement

শনিবার (২৯ আগস্ট) দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়, ২১ মার্চ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চার মাসে প্রাপ্ত এই বিপুল অর্থ চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মেয়াদে সরকারের সব ধরনের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় নির্বাহে পুরোপুরি সক্ষম হবে।

ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নৌ অবরোধ সত্ত্বেও গত ২১ মার্চ থেকে আগামী বছরের ২০ মার্চ পর্যন্ত ঘোষিত বার্ষিক রাষ্ট্রীয় বাজেটের তেলের রাজস্ব চাহিদা মেটাতে সক্ষম পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল তেহরানের হাতে মজুত রয়েছে।

পর্যালোচনা অনুযায়ী, প্রথম চার মাসে বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশ রাজস্ব তেল খাত থেকেই অর্জিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার ফলে তেহরানের তেল রপ্তানি এবং নৌ বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলেও ইরানের এই রাজস্ব আয় অর্থনৈতিক স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন-ইরান বৈশ্বিক সংঘাতের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। অবরুদ্ধ পরিস্থিতির জবাবে ইরান কৌশলগত এই জলপথটি বন্ধ করে রাখলেও ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ নৌচলাচলের জন্য এটি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

চলমান যুদ্ধ ও বৈরিতা নিরসনে গত জুন মাসে স্বাক্ষর হওয়া দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের মূল শর্তই ছিল মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ।

তবে তেহরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ না তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ও অর্থ ছাড় দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি উন্মুক্ত করা হবে না।