logo

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে তিনটি বিকল্প পদ্ধতি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে তিনটি বিকল্প পদ্ধতি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে তিনটি বিকল্প পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগ ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে এ তিনটি বিকল্প পদ্ধতি যুক্ত করার কথাও জানিয়েছে। এ পদ্ধতিগুলো হলো - ফায়ারিং স্কোয়াড (গুলি করে মৃত্যুদণ্ড), ইলেকট্রোকিউশন (বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা) এবং গ্যাস অ্যাসফিক্সিয়েশন (গ্যাস প্রয়োগে শ্বাসরোধ)।

রয়টার্স এবং গ্লোবাল নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি এখন এই উদ্দেশ্যে ওষুধ সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এই জটিলতা এড়াতেই বিকল্প পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইডাহো এবং সাউথ ক্যারোলাইনার মতো বেশ কিছু অঙ্গরাজ্য সম্প্রতি ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পদ্ধতি পুনরায় চালু করেছে। দেশটির বেশকিছু রাজ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি তাদের আইনে বৈধ।

এছাড়া গ্যাস অ্যাসফিক্সিয়েশন বা নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে শ্বাসরোধে অপরাধীর মৃত্যু কার্যকর করা হচ্ছে।  ২০২৪ সালে আলাবামা অঙ্গরাজ্য প্রথম এই পদ্ধতি কার্যকর করে এবং পরবর্তীতে আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এটি গ্রহণ করে।

ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, এই বর্ধিত প্রোটোকল নিশ্চিত করবে যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণঘাতী ওষুধ না পেলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোটোকল আপডেট করা হলেও পরবর্তী ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। কারণ ফেডারেল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের অনেক মামলা এখনও বিচারাধীন বা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে তিনটি বিকল্প পদ্ধতি চালুর এই ঘোষণার পর মানবাধিকার সংগঠন এবং বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা এ বিষয়টির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা এই পদ্ধতিগুলোকে ‘বর্বর’ এবং ‘নিষ্ঠুর’ বলে অভিহিত করেছেন।