ভারতকে ট্রাম্পের ‘খোঁচা’, দিল্লির কড়া জবাব

ভারতীয়দের নিয়ে ‘অশোভন’ মন্তব্য করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছে দিল্লি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পডকাস্টের বক্তব্য শেয়ার করেন ট্রাম্প, যেখানে ভারত ও চীন সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য রয়েছে।
‘স্যাভেজ ন্যাশন’ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে মার্কিন উপস্থাপক মিচেল স্যাভেজ বলেন, ‘এখানে জন্ম নিলেই কেউ নাগরিক হয়ে যায়, এরপর তারা ভারত বা চীনের মতো ‘জাহান্নাম’ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে আসে।’
এই মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতাপূর্ণ, অনুপযুক্ত ও রুচিহীন’ বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বা স্যাভেজের নাম উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, এসব মন্তব্য ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘এই সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।’
ঘটনাটি ভারতে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস একে ‘অত্যন্ত অপমানজনক ও ভারতবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছে।
দলটি বলেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে জোরাল প্রতিবাদ জানানো।
এমন এক সময়ে এই বিতর্ক তৈরি হলো, যখন দিল্লি ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে।
গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যার একটি অংশ ছিল রাশিয়ার তেল কেনার ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে সেই শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। এই চুক্তির বিস্তারিত এখনও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী মাসে ভারত সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য চালু থাকা এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিরও সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এই কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী ভারতীয়রা।