পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দ্বিতীয় ধাপে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ১১টি আসনসহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
এনডিটিভি জানায়, প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড ৯২ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি নজর কাড়ে সবার। এত বেশি উপস্থিতিকে ঘিরে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস— দুই শিবিরই নিজেদের পক্ষে ভোট বলে দাবি করে। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় দফাতেও কি একই প্রবণতা দেখা যায়, নাকি ফলাফলে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়।
দক্ষিণবঙ্গ ঐতিহ্যগতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলে দলের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির প্রভাব স্পষ্ট। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছিল ১২৩টি, বিজেপি পেয়েছিল ১৮টি ও বামফ্রন্ট মাত্র একটি আসনে জয়ী হয়েছিল।
তবে এবার বিজেপি কৌশল বদলেছে। দলটি বিশেষ করে সেইসব আসনে নজর দিচ্ছে, যেখানে তারা আগে এগিয়ে ছিল। তাদের লক্ষ্য প্রথম দফার ফলাফলের ঘাটতি পুষিয়ে নিয়ে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ ধরে ফেলা।
বিজেপির প্রচারে উঠে এসেছে কর্মসংস্থান, অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি ও নারী নিরাপত্তার মতো ইস্যু। পাশাপাশি কলকাতার রাস্তার অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। শেষ দফা ভোটের সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
তিনি লেখেন, আজ যারা ভোট দিচ্ছেন, তাদের সকলকে অনুরোধ করছি, রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দিন। আমাদের গণতন্ত্রকে আরও গতিশীল করুন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের নারী ও যুব সম্প্রদায়ের বিপুলভাবে ভোটদান করা জরুরি।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলেছেন। পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন।
তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কম, সেখানে এই বিষয়টি ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু এলাকায় বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা আগের নির্বাচনের জয় ব্যবধানের চেয়েও বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত লড়াই হচ্ছে কলকাতার ভবানীপুর আসনে। এখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হয়েছেন বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাদের আগের নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের পর এই আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, দক্ষিণ কলকাতার এই আসনে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ৫১ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে তিনি এই আসনে প্রায় ৫৮ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।
এই দফায় আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী শশী পাঁজা, অরূপ বিশ্বাস, ব্রাত্য বসু, সুজিত বসু ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। অন্যদিকে বিজেপি ‘বহিরাগত’ ইস্যু মোকাবেলায় স্থানীয় মুখকে প্রাধান্য দিয়েছে। তাদের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত, অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলি ও পানিহাটিতে আরজি কর কাণ্ডের ভুক্তভোগীর মা।
উল্লেখ্য, আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে।