ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন

প্রথমবারের মতো ডেঙ্গুর টিকার অনুমোদন দিয়েছে ভারত। দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়ার তৈরি ‘কিউডেঙ্গা’ টিকার বাজারজাতকরণের অনুমতি দিয়েছে। কোম্পানির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানায়, এর মাধ্যমে কিউডেঙ্গা ভারতে অনুমোদন পাওয়া প্রথম ডেঙ্গু টিকা হতে যাচ্ছে। ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সীরা এই টিকা নিতে পারবেন। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য তিন মাসের ব্যবধানে মোট দুটি ডোজ নিতে হবে।
কোম্পানিটির দাবি, এই টিকা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম। এছাড়া আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকুন বা না থাকুন, তিনি এই টিকা নিতে পারবেন। টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু সংক্রমণের ইতিহাস জানতে কোনো প্রাক্-টিকাদান (প্রি-ভ্যাকসিনেশন) পরীক্ষারও প্রয়োজন হবে না।
টিকার এই অনুমোদন এমন সময়ে এল, যখন ভারতে ডেঙ্গু একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত দুই দশকে দেশটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর মোট রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতীয়।
বিভিন্ন মডেলভিত্তিক গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।
ভারতে কিউডেঙ্গা টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তাকেদার বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন কর্মসূচির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। এই কর্মসূচির আওতায় ফেজ–১, ফেজ–২ ও ফেজ–৩ মিলিয়ে মোট ১৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়। এতে ডেঙ্গুপ্রবণ ও ডেঙ্গু-অপ্রবণ অঞ্চলের ২৮ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন।
ফেজ–৩ ট্রায়ালে ডেঙ্গুপ্রবণ আটটি দেশের ২০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী ছিলেন।
তাকেদার তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১২ মাস পর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। আর ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে ১৮ মাস পর এর কার্যকারিতা ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।
এ ছাড়া সাড়ে চার বছরের অনুসরণমূলক (ফলোআপ) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ। সাত বছর পর্যন্ত ফলোআপেও ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।
ভারতে টিকাটির অনুমোদনের ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে পরিচালিত একটি ফেজ–৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কোম্পানিটির দাবি, ওই গবেষণায় শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে টিকাটি নিরাপদ, সহনীয় এবং শরীরে কার্যকর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম বলে প্রমাণ মিলেছে।
.png)






