লেবাননে শিগগিরই যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আশা সশস্ত্র গোষ্ঠীর

সশস্ত্র মিলিশিয়া হিজবুল্লাহর মুখপাত্র ও লেবাননের সংসদ সদস্য ইব্রাহিম মুসাভি জানিয়েছেন, ইরান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় লেবাননে দ্রুতই একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লেবাননের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা প্রক্রিয়াধীন। তবে এই যুদ্ধবিরতি ঠিক কখন শুরু হবে বা কতদিন স্থায়ী হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য তারা দিতে পারেননি।
লেবানিজ কর্মকর্তাদের মতে, এই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব সম্ভবত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদের ওপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি যত দিন কার্যকর থাকবে, লেবানন সীমান্তও তত দিন শান্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ সমন্বয়কারী সংস্থা ‘খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি এই হুঁশিয়ারি দেন।
আবদুল্লাহি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবরোধ বজায় রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য অনিরাপদ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, তবে তা হবে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে ইরানের সেনাবাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে যাবতীয় আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে।’
যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার উল্লিখিত জলপথগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।
গত সোমবার থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ শুরু হয়। বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই এই অবরোধ অতিক্রম করতে পারেনি। এমনকি ওমান সাগরে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রায় ছয় সপ্তাহের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল এক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। আবদুল্লাহি সেই চুক্তির প্রসঙ্গ টেনেই এই হুঁশিয়ারি দিলেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হতে পারে। অবশ্য ইরান এখনও এই আলোচনার বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।