logo

স্বার্থ রক্ষায় লেবাননের স্পিকারকে মাসে ৫ লাখ ডলার দেয় ইরান

স্বার্থ রক্ষায় লেবাননের স্পিকারকে মাসে ৫ লাখ ডলার দেয় ইরান

লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নবিহ বেরি তেহরানের স্বার্থ এবং হিজবুল্লাহকে সমর্থন অব্যাহত রাখতে ইরানের কাছ থেকে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পান; এমন দাবি করেছে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

মাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবগত সূত্রের দাবি অনুযায়ী এই অর্থ লেবাননের শিয়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং তাদের অবস্থান ইরানের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে ব্যবহার করা হয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে নবিহ বেরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তার এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আপাতত কোনো মন্তব্য করবেন না তিনি।
সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক হামলার বিরোধিতা প্রকাশ্যে করেননি বেরি। কারণ, এতে তেহরান থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

৮৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিক লেবাননের আমাল মুভমেন্ট–এর প্রধান। দেশটির অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক রাজনীতিতে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। ১৯৭০–এর দশকে গঠিত এই শিয়া রাজনৈতিক সংগঠনটি হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেও পরিচিত।

গত ১ মার্চ ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান থেকে বিপুল অর্থ সহায়তা পাওয়ার কারণে লেবাননের পার্লামেন্টে ইরানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতিগুলো এগিয়ে নিতে বেরির ওপর চাপ রয়েছে। এ কারণেই হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার সরকারি উদ্যোগে তিনি সমর্থন দিতে অনিচ্ছুক এমন দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে সংগঠনটি তাদের অস্ত্র পুরোপুরি হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সতর্ক করে বলেছেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে লেবাননকে “ভারি মূল্য দিতে হবে”।

উল্লেখ্য, ইরান হিজবুল্লাহকে তথাকথিত “অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স”–এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। এই জোটে হামাস, ইসলামিক জিহাদ, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মতো গোষ্ঠীগুলোও রয়েছে।

এদিকে আগের কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান হিজবুল্লাহকে বিপুল অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল