ঈদ সামনে রেখে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

টানা কয়েক সপ্তাহের সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী হামলার পর অবশেষে সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। মুসলিমদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান চলমান সংঘাতের মধ্যে সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলায় বহু মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার দুই দিন পর বুধবার (১৮ মার্চ) এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। খবর সিবিসি নিউজ
আফগানিস্তান দাবি করেছে, ওই হামলা পাকিস্তানের বিমান হামলায় হয়েছে। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা শুধু সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে।
দুই দেশই জানিয়েছে, মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হচ্ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের অনুরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই তিন দেশ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সীমান্ত সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই কাবুলে নিহতদের স্মরণে গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বহু অজ্ঞাত মরদেহ দাফন করা হয়।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, বুধবার মধ্যরাত থেকে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়ে সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে। তিনি বলেন, এটি একটি সদিচ্ছার প্রতীক। তবে যদি পাকিস্তানের ভেতরে কোনো হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে, তাহলে সামরিক অভিযান আবারও শুরু হবে।
অন্যদিকে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করলেও বলেছেন, কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে তারা কঠোর জবাব দেবে।
হাসপাতালে হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
আফগানিস্তান জানিয়েছে, কাবুলের ওমিদ আসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং শতাধিক আহত হয়েছে। যদিও এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা কেবল সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটলেও তা গোলাবারুদের গুদাম বিস্ফোরণের কারণে হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাওয়া কর্মীরা জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। অনেক কফিনে একাধিক ব্যক্তির দেহাবশেষ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে এই সংঘাত শুরু হয়। এর আগে গত অক্টোবরে কাতারের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে তা ভেঙে যায়।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান তাদের দেশে হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে।
এদিকে আফগানিস্তানের ভেতরে মাদকাসক্তি একটি বড় সমস্যা। দেশটির বিশাল পপি চাষ থেকে উৎপাদিত হেরোইন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও দারিদ্র্যের কারণে এই সমস্যা আরও বেড়েছে।
যে হাসপাতালে হামলা হয়েছে, সেটি কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত। আগে এটি একটি ছোট চিকিৎসাকেন্দ্র ছিল, পরে সম্প্রসারণ করে বড় হাসপাতালে রূপ দেওয়া হয়।
এই সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ এই অঞ্চলে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে, যারা পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে।
ক্রমাগত হামলা, পাল্টা হামলা ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।