logo

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ যুদ্ধবিমান ধ্বংস-ক্ষতিগ্রস্ত

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ যুদ্ধবিমান ধ্বংস-ক্ষতিগ্রস্ত
ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের টারম্যাকে মার্কিন বিমান বাহিনীর দুটি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার রাখা আছে। ছবি: গেটি ইমেজেস

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি আকাশযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান ও চালকবিহীন ড্রোন রয়েছে। এসব উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২৩ হাজার ৪৩৮ কোটি থেকে ৪০ হাজার ৭০৮ কোটি টাকার বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে এসব উড়োজাহাজ হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হিসাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান এবং সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ৮১টি উড়োজাহাজের মধ্যে ৪৫টিই এমকিউ-৯ রিপার চালকবিহীন আকাশযান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। সংঘাতের ব্যয় বাড়তে থাকলেও এখনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।

সাবেক মার্কিন নৌ কর্মকর্তা ও সরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কিলোওয়েন গ্রুপের চেয়ারম্যান হারলান উলম্যান আল-জাজিরাকে বলেন, আধুনিক যুদ্ধে সামরিক শক্তির অসমতা থাকলেও ছোট দেশ ও সীমিত সামরিক সক্ষমতার পক্ষও বড় শক্তির ক্ষতি করতে পারে।

তার মতে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটিগুলোর ক্ষতি করতে কিছুটা সফল হয়েছে।

উলম্যান বলেন, তুলনামূলক কম খরচের চালকবিহীন আকাশযান এখন বড় সামরিক স্থাপনার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। আধুনিক যুদ্ধে এ ধরনের আকাশযানের সহজলভ্যতা ও ব্যবহার যুদ্ধের ধরন বদলে দিচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। ২০২৭ অর্থবছরের জন্য তার প্রশাসন রেকর্ড ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছে। যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

তবে যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে কংগ্রেসে প্রশ্ন উঠেছে। গত মাসে ৪৫ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও একজন স্বতন্ত্র সিনেটর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি দিয়ে যুদ্ধের ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে কংগ্রেসের বিবেচনার আগে ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রয়োজন বলে তারা উল্লেখ করেন।

সিনেটরদের চিঠিতে দাবি করা হয়, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন করদাতাদের অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া খাদ্যপণ্য, গৃহঋণ ও বিমান টিকিটের মতো খাতে আরও ৬ হাজার কোটি ডলার বাড়তি ব্যয় হয়েছে।

সিবিওর সেপ্টেম্বরের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। গোলাবারুদ ও যুদ্ধে হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় এবং অন্যান্য সামরিক কার্যক্রমের খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধ আরও এক মাস চললে ব্যয় বাড়তে পারে ২০০ কোটি ডলার। আর সংঘাতের তীব্রতা জুলাই মাসের পর্যায়ে পৌঁছালে মাসিক ব্যয় বেড়ে ৩০০ কোটি ডলার হতে পারে।

যুদ্ধে উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি প্রত্যাশিত ছিল কি না এবং তা প্রতিরক্ষা বাজেটে কী প্রভাব ফেলবে—এ বিষয়ে আল-জাজিরার প্রশ্নে পেন্টাগন জানিয়েছে, তাদের নতুন করে কিছু বলার নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধটি নিয়ে জনমতও নেতিবাচক। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুদ্ধের ব্যয় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে উলম্যান মনে করেন, সামরিক অভিযানে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতিকে অনেক মার্কিন নাগরিক প্রত্যাশিত ঘটনা হিসেবে দেখতে পারেন। ফলে শুধু এই প্রতিবেদন নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন না।