ইউক্রেনকে ২৮ কোটি ডলারের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেবে যুক্তরাজ্য

ফ্রান্সের ওত-সাভোয়া অঞ্চলের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের আগে ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ২৮ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে স্টারমারের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার ‘বর্বর হামলার’ জবাবে যুক্তরাজ্য আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। এর লক্ষ্য রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়নের পথ সংকুচিত করা এবং আসন্ন শীত মৌসুমে ইউক্রেনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে আগামী দুই বছরের জন্য দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সহায়তা দিতে ২১ কোটি পাউন্ড (২৮ কোটি ২০ লাখ ডলার) বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, এই সহায়তা ‘আগামী শীতগুলোতে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’।
কিয়ার স্টারমার বলেন, যতদিন প্রয়োজন, আমরা ইউক্রেনের পাশে থাকব। এই ঘোষণার মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হলো। পুতিনের উচিত তার সেনা ও ট্যাংক প্রত্যাহার করা, বর্বর হামলা বন্ধ করা এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা।
ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাজ্য সরকারের আংশিক মালিকানাধীন বহুজাতিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রতিষ্ঠান ইউরেঙ্কোতে ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এনারগোঅ্যাটমকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহ করা হবে।
গত সপ্তাহে লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমার ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের সময় এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কিয়েভের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে মিত্র দেশগুলো সেখানে আলোচনা করবে।
একইসঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় মস্কোর অর্থায়ন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য। নতুন পদক্ষেপে রাশিয়ার আর্থিক নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ জাহাজের সংখ্যা ৬০০-এর বেশি করা হবে।
এছাড়া পশ্চিমা প্রযুক্তি গোপনে সংগ্রহ করে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত একটি রাষ্ট্র-সমর্থিত নেটওয়ার্ক এবং বিশ্বজুড়ে রাশিয়ার জন্য অবৈধ অর্থ লেনদেন সহজতর করা বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে।
যুক্তরাজ্যের দাবি, এসব পদক্ষেপ রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করবে।
এদিকে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশের নেতারাও উপস্থিত রয়েছেন।
বিশ্ব নেতারা ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কমে আসা সমর্থনের প্রেক্ষাপটে কিয়েভের প্রতি আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অংশ নিলেও জেলেনস্কির সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে মঙ্গলবারের (১৫ জুন) কার্যকরী অধিবেশনে ট্রাম্প ও জেলেনস্কি উভয়েই অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়ের ম্যাখোঁর পাশাপাশি মিশর, ভারত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা চললেও ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক না হওয়াকে কূটনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, এনডিটিভি
