যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ভয়াবহ হামলা চালানো হবে, যাতে তারা এ অঞ্চল থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেন, তেহরান এমন ব্যবস্থা নেবে যাতে ওয়াশিংটন ও তার সহযোগীরা এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস থেকে বছরের পর বছর ‘বঞ্চিত’ থাকে এবং এ অঞ্চল থেকে সব গুটিয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আজ ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহরের ৩০টিরও বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়।
এর অগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে কড়া হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির সব শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে রাতের মধ্যে গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তবে, আমি চাই না এমনটা হোক। তবে সম্ভবত এটি হতে চলেছে।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে মুখ খুলেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বলেন, ইরান সরকারের কোনো ‘অপরাধ বা ভুলের’ জন্য দেশটির সাধারণ মানুষকে ‘মূল্য’ দিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
একইসঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দাও জানান। তিনি বলেন, ইরান সরকারের কর্মকাণ্ড এবং দেশটির সাধারণ জনগণের ভাগ্যকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখা জরুরি।