গুরুতর অসুস্থ মোজতবা খামেনি, কী হয়েছে

উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ কোমে গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস।
তিনি বর্তমানে দেশ পরিচালনার মতো অবস্থায় নেই। সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি অচেতন অবস্থায় রয়েছন এবং তিনি গুরুতর অসুস্থ। পবিত্র নগরী কোমে তার চিকিৎসা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। সেই গোয়েন্দা নথি দ্য টাইমসের হাতে এসেছে। তাতে প্রথমবারের মতো ইরানের সুপ্রিম লিডারের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, শিয়াদের কাছে পবিত্র বিবেচিত কোম শহরে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোজতবা খামেনি। এ ছাড়া সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তিনি অংশ নিতে পারছেন না।
ওই নথি অনুসারে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ দেশটির ধর্মীয় রাজধানী হিসেবে পরিচিত কোমে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোমে ‘একাধিক কবরের’ জন্য ‘একটি বড় সমাধিসৌধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ভিত্তি স্থাপনের’ প্রস্তুতি নিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, প্রয়াত নেতা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সম্ভবত স্বয়ং মোজতবাও এখানে সমাহিত হতে পারেন।
ধারণা করা হয়, মোজতবা খামেনির অবস্থান সম্পর্কে মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বেশ কিছুদিন ধরেই অবগত ছিল। কিন্তু তা আগে কখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হন তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই সঙ্গে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। জবাবে তেহরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি ও পানি শোধনাগারে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
ওই হামলায় আহত হয়েছিলেন মোজতবা খামেনি। এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দফায় বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার বিবৃতি পড়ে শোনান অন্য আরেকজন। জনসমক্ষে তার না আসা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার জীবিত থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।