logo

সাইপ্রাসে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে তুরস্ক

সাইপ্রাসে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে তুরস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমবতাবস্থায় ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে এফ-১৬এস যুদ্ধবিমান মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে তুরস্ক। শনিবার (৭ মার্চ) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

সূত্রটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন তুর্কি সাইপ্রিয়ট রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপটি বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম সাবার জানিয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় উত্তর সাইপ্রাসে বসবাসকারী তুর্কি সাইপ্রিয়টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এফ-১৬ ফ্লাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য মোতায়েন হতে পারে উত্তর সাইপ্রাস তুর্কি প্রজাতন্ত্রে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এরপর তেহরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে।

এদিকে বিভক্ত সাইপ্রাস দ্বীপের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ সাইপ্রাসের প্রশাসন পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোয় উত্তরের তুর্কি সাইপ্রিয়ট কর্তৃপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা সামরিক অভিযানে দ্বীপে থাকা ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটি লজিস্টিক সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। ইরানি বাহিনী সতর্ক করে দিয়েছে, সংঘাত আরও বাড়লে পশ্চিমা সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত এসব স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উত্তর সাইপ্রাসের নেতৃত্ব একাধিক নিরাপত্তা বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে সংকট ব্যবস্থাপনা, তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় এবং নাগরিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

উল্লেখ্য, সাইপ্রাস দ্বীপটি পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই ভাগে বিভক্ত। উত্তর অংশে তুর্কি সাইপ্রিয়ট প্রশাসন এবং দক্ষিণ অংশে গ্রিক সাইপ্রিয়ট প্রশাসন রয়েছে। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত উত্তর সাইপ্রাসকে শুধু তুরস্ক স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ সাইপ্রাস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং ২০০৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়।