লেবাননে দখল করা অঞ্চল ঘুরে দেখলেন নেতানিয়াহু

সারা বিশ্বের চোখ যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার দিকে, ঠিক তখনই লেবানন সীমান্তে একটি অঞ্চল দখলে নিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। রোববার (১২ এপ্রিল) অঞ্চলটি পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেখানে ইসরায়েলি সেনা সদস্যদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন তিনি এবং তা নিরাপত্তা অঞ্চল ঘোষণা করেন।
পরিদর্শনকালে নেতানিয়াহু বলেন, লেবানন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের অনুপ্রবেশের যে বড় ধরনের হুমকি ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে লেবানন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আসন্ন ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাত্র দুদিন আগে নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবিদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা অঞ্চল ঘোষিত এলকাটি পরিদর্শনকালে নেতানিয়াহু নিরাপত্তা পোশাক (ফ্ল্যাক জ্যাকেট) পরিহিত ছিলেন। ওই সময় তিনি মুখোশধারী কিছু সেনাদের সঙ্গে আলাপ করছেন এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, নিরাপত্তা জোনের ভেতরে এখনও লড়াই চলছে, তবে আমরা বড় ধরনের অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা ধ্বংস করে দিয়েছি।
ওই সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির।
অন্যদিকে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তার প্রত্যশি ব্যক্ত করেছেন। ১৯৭৫ সালের গৃহযুদ্ধের দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধ থামানো এবং লেবাননের মাটি থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার নিশ্চিত করা। বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ঘরে ফেরানো এবং বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর এ যুদ্ধে দুয়েক দিন পর যুক্ত হয় হিজবুল্লাহর রকেট হামলা। এরপর থেকে ইসরায়েলের আকাশপথে ও স্থল অভিযানে লেবাননে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি।
বিজিত এলাকা পরিদর্শন শেষে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, দক্ষিণ লেবাননের এই স্থল অভিযান কেবল হিজবুল্লাহর অনুপ্রবেশ ঠেকানো নয়, বরং উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলার আশঙ্কা কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
তবে রোববার লেবানন থেকে ইসরায়েলে অন্তত ১০টি রকেট ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, রোববার ভোররাত থেকে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে জানা গেছে, রোববার স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিটে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কিরিয়াত শমোনা লক্ষ্য করে প্রথম দফার রকেট হামলা চালানো হয়। এর ঠিক কিছু সময় পর রাত ২টা ৪৫ মিনিটে দোভিভ নামক বসতি এলাকায় দ্বিতীয় দফায় রকেট ছোড়া হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় তারা উত্তর ইসরায়েল এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান, ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে অন্তত ৪৩টি আক্রমণ পরিচালনা করেছে।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবানন ও দেশটির সাধারণ মানুষের ওপর ইসরায়েলি এবং যুক্তরাষ্ট্র মদদপুষ্ট এই যুদ্ধ যতক্ষণ না পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের পাল্টা জবাব অব্যাহত থাকবে।