ইরানের থামার লক্ষণ নেই, ফুরিয়ে আসছে মার্কিন মিত্রদের ইন্টারসেপ্টর

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হঠাৎ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হারায় ইরান। এরপর প্রতিশোধ নিতে পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে তেহরান। এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র হিসেবে পরিচিত ১৫টি দেশে ইরানের হামলা চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন দেশের সমালোচনা ও অনুরোধের পরও ইরানের থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোনে অনেকটাই বেকায়দায় পড়েছে আরব দেশগুলো। এসব মারণাস্ত্র ঠেকাতে ওই দেশগুলোর ইন্টারসেপ্টর (প্রতিরোধ ক্ষেপণাস্ত্র) দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
এক প্রতিবেদনে ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া জানিয়েছে, ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে থাকা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে বৃষ্টির মতো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখছে দেশগুলো। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্রুত ভাঙনের দিকে যাচ্ছে, কারণ কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারসেপ্টর কয়েক দিনের মধ্যে ফুরিয়ে আসবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ও রাডারের সাহায্যে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইরানি হামলা ঠেকাতে ব্যস্ত থাকলেও ইরানের হামলা থামার কোনো লক্ষণ নেই। মঙ্গলবারও তারা সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়েছে।
সামরিক সূত্রের বরাতে এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছিল, একটি ইরানি ড্রোন তৈরি করতে খরচ হয় ৩৫ হাজার ডলারের মতো, কিন্তু সেই ড্রোন ঠেকাতে ইন্টারসেপ্টর হিসেবে ব্যবহার হয় যেসব ক্ষেপণাস্ত্র, সেগুলোর একেকটি তৈরিতে খরচ হয় ৫ থেকে ৪০ লাখ ডলার। এই অবস্থায় একদিকে ইন্টারসেপ্টরের মজুত যেমন দ্রুত ফুরিয়ে আসছে মার্কিন মিত্রদের, অন্যদিকে তাদের যুদ্ধের ব্যয়ও অনেকাংশে বেড়ে যাচ্ছে।
এই মুহূর্তে তাদের ইরানের পাশাপাশি সময়ের বিরুদ্ধেও লড়তে হচ্ছে। কারণ, মজুত ফুরিয়ে আসার আগেই পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর জোগাড়ের চাপে পড়েছে দেশগুলো।
তেহরান প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়ে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে ফেলছে। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ‘শাহেদ’ ড্রোন মজুত আছে। এ ছাড়া প্রতি মাসে অন্তত ৫০০ ড্রোন তৈরির সক্ষমতা থাকায় তারা দীর্ঘ সময় এই হামলা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ইরান যদি বর্তমান গতিতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে এক কিংবা দুই সপ্তাহের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা অনেকাংশে কমে যাবে। ফলে ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে।