লারিজানি হত্যার চূড়ান্ত প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানি সেনাপ্রধানের

ইরানের নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি হত্যার চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিবিসির খবরে জানানো হয়, এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাপ্রধান বলেছেন, ‘আলী লারিজানিসহ অন্যান্য শহীদদের হত্যার চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়া হবে।’
ইরানি সেনাপ্রধান বলেন, ‘যথাসময়ে এবং যথাস্থানে আমেরিকা ও রক্তখেকো জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীকে চূড়ান্ত, প্রতিরোধমূলক ও অনুতাপমূলক জবাব দেওয়া হবে।’
এদিকে এএফপির খবরে বলা হয়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলী লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ নিতে এরইমধ্যে ইসরায়েলে বেশকয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান। আইআরজিসির বরাত দিয়ে মঙ্গলবার আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরান ও ইসলামি বিপ্লবের উন্নতির জন্য আজীবন সংগ্রামের পর আলী লারিজানি অবশেষে তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করেছেন, সত্যের ডাকে সাড়া দিয়েছেন এবং অত্যন্ত গৌরবের সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শাহাদাতের বরকতময় মর্যাদা লাভ করেছেন।
লারিজানি ইরানের পার্লামেন্টের প্রাক্তন স্পিকার এবং ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ব্যক্তিত্ব। একসময় তিনি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক আলোচনায়ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। গত শুক্রবার তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আল-কুদস দিবসের র্যালিতে প্রকাশ্যে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) আধা-সামরিক বিাহিনীর বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলাম সোলেইমানির নিহতের খবর নিশ্চিত করে ইরান।
পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হঠাৎ যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের ভূখণ্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তেহরান। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রও।