ট্রাম্পের অবিবেচক কৌশল মার্কিন সেনাদের ঝুঁকিতে ফেলেছে

ইরানে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার শিকার হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনেকেই এই যুদ্ধকে অযৌক্তিক ও বেআইনি বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি এ যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অনেক পক্ষও। মার্কিন আইনসভার সদস্য ও মেরিন কোরের প্রাক্তন সদস্য সেথ মল্টন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ইরান বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবিবেচক দৃষ্টিভঙ্গি তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার পাশপাশি মার্কিন সেনাদের একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে।’ এমএসএনবিসির বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় আলজাজিরা।
স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টায় ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে একটি ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার ভাষণ প্রসঙ্গে মল্টন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বোধবুদ্ধিহীন। তিনি স্মৃতিভ্রষ্ট ও উন্মত্ত। আমার মতে, এটি অত্যন্ত করুণ একটি ভাষণ। ভাষণে প্রেসিডেন্ট দেখিয়ে দিয়েছেন, তিনি কতটা দুর্বল এবং অবিবেচক।’
মল্টন বলেছেন, ‘ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তির চেষ্টা করার সময় ওবামার করা পুরনো চুক্তি বাতিল করে সেটা নিয়ে বড়াই করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন কখনোই সম্ভব নয়। তবে সত্যি বলতে, তিনি ইরানের শাসনব্যববস্থা পরিবর্তন করেছেন। ৮৬ বছরের একজন ভগ্নস্বাস্থ্য বৃদ্ধকে সরিয়ে ৫০ বছরের একজন সক্রিয় ও আরও কট্টর একজনকে ক্ষমতায় এনে দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, আমরা যেমনটি চেয়েছিলা, তিনি তার ঠিক বিপরীত করেছেন।’
মল্টন আরও বলেন, ‘ট্রাম্প বলেছেন, কয়েকমাস আগেই আমি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি; কিন্তু এখন একই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নাকি আরো কয়েক সপ্তাহ তাদের ওপর বোমা ফেলতে হবে।’
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি ইরানের প্রতি কঠোর না হলে তারা মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলকে এত দিনে শেষ করে দিত। ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সঙ্গে ২০১৫ সালে হওয়া বহুপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করার ফলে ইসরায়েল ও গোটা অঞ্চল ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। তা না হলে এত দিনে তারা গোটা অঞ্চলকে শেষ করে দিত।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের এক বিশাল ভান্ডার তৈরির পথ প্রশস্ত করত। তারা বহু বছর আগেই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেয়ে যেত এবং সেগুলো ব্যবহার করতে শুরু করত।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আর তাহলে পৃথিবীটা অন্যরকম হতো। এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্য বা ইসরায়েল বলে কিছুর অস্তিত্ব থাকত না।’
ট্রাম্প যে চুক্তির কথা বলছেন, ওই চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক কড়া নজরদারির বিনিময়ে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছিল বলে জানাচ্ছে আলজাজিরা।
অন্যদিকে, ইরান সবসময়ই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ এবং তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি।
একই ভাষণে ইরানের নৌবাহিনী বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদের বিমানবাহিনী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, অধিকাংশ নেতা নিহত হয়েছেন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা সংকুচিত হয়ে এসেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বড় জয় পাচ্ছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার বাহিনী ইরানে বিধ্বংসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যখন থেকে বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করেছে, তার মাত্র এক মাস পার হয়েছে। এই চার সপ্তাহে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত, চূড়ান্ত ও অপ্রতিরোধ্য বিজয় অর্জন করেছে।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে গিয়েছে, এবং তাদের অস্ত্র কারখানা ও রকেট লঞ্চারগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, খুব সামান্যই অবশিষ্ট আছে।’