logo
Advertisement

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র: জেডি ভ্যান্স

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র: জেডি ভ্যান্স
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

ইরানের উপকূলীয় শহর সিরিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে হামলার ঘটনায় ইরান সরকারের দেওয়া তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ভ্যান্স।

Advertisement

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ওই হামলার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া হতাহতের তথ্যের বিষয়ে তিনি ‘অত্যন্ত সন্দিহান’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরির ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কখনো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। তবে মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও দায় অস্বীকার করেছে। এতে ভুক্তভোগীদের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এর আগে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন ইরানের মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনাতেও ট্রাম্প প্রশাসন দায় অস্বীকার করেছিল। নিহতদের বেশির ভাগই ছিল শিক্ষার্থী। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পর্যালোচনা করা বিভিন্ন প্রমাণে ওই হামলায় মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

যুদ্ধ কবে শেষ হবে, জানেন না ভ্যান্স

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভ্যান্স।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি চলমান পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধ’ বলা উচিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ভ্যান্স বলেন, “আমি এটিকে যুদ্ধ বলব না। এই মুহূর্তে সক্রিয় গোলাগুলি চলছে না।” তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, কিছু এলাকায় আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে।

ভ্যান্সের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক অভিযান প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলছে এবং এতে ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা

সংঘাতের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন ভ্যান্স।

যুদ্ধ কবে শেষ হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করছে ইরান কবে জাহাজে হামলা বন্ধ করবে তার ওপর। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তার জানা নেই বলেও জানান তিনি।

২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম দফার হামলার পর ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ করে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

ভ্যান্স দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে দেওয়ার বিষয়ে নতুন কোনো চুক্তি হলে তা বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে সহায়তা করতে পারে।

জ্বালানি সংকট এড়ানোর কৃতিত্ব ট্রাম্পকে

মার্কিন মিত্র দেশগুলো যুদ্ধ মোকাবিলায় প্রত্যাশিত মাত্রায় সহযোগিতা করছে না বলেও সমালোচনা করেন ভ্যান্স। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের জ্বালানি সংকট এড়ানোর কৃতিত্ব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দেন তিনি।

ভ্যান্স বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর তৎপরতার কারণেই এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবার নিয়েও প্রশ্ন

সংঘাত শুরুর পর ইরান, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং আরও ৭৫০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবার পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়েও সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভ্যান্সকে প্রশ্ন করা হয়।

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নিহত বিমানবাহিনীর মেজর জন ‘অ্যালেক্স’ ক্লিনারের স্ত্রী লিবি ক্লিনার আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করায় তাদের পরিবারের কিছু প্রাপ্য সুবিধা আটকে রাখা হয়েছে।

সাবেক সেনাসদস্য ভ্যান্স এ বিষয়ে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, অভিযানে প্রাণ হারানো প্রত্যেক মার্কিন সেনাসদস্যের পরিবারের জন্য তাদের হৃদয় ভেঙে যায়।