logo
Advertisement

সিরিয়াকে পরমাণু শক্তিধর করতে চেয়েছিলেন আসাদ, ফাঁস করল আল-শারার সরকার

এএফপি
এএফপি
সিরিয়াকে পরমাণু শক্তিধর করতে চেয়েছিলেন আসাদ, ফাঁস করল আল-শারার সরকার
২০০৭ সালে ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক ধ্বংস হওয়ার আগে সিরিয়ার পারমাণবিক চুল্লির স্থাপনা ও বাশার আল-আসাদ। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ অত্যন্ত গোপনে সিরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন। এ লক্ষ্যে গোপন স্থাপনায় কয়েক টন পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর তীব্র আক্রমণের মুখে আসাদ সরকারের পতনের পর সেই গোপন পারমাণবিক কর্মসূচি ও স্থাপনার তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দেশটির রাজধানী দামেস্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি গোপন ওই স্থানে পারমাণবিক উপাদানের তথ্য নিশ্চিত করার বিষয়ে সিরিয়ার ‘সাহসী সিদ্ধান্তের’ প্রশংসা করেছেন।

আইএইএ পরিচালক জানান, তাদের পরিদর্শকরা ইতিমধ্যে সিরিয়ার দুটি স্থান পরিদর্শন করেছেন। এর মধ্যে একটি দেইর এজোর ও অপর স্থানটি সিরিয়া সরকারের সম্প্রতি চিহ্নিত পারমাণবিক উপকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা এমন কয়েক টন পারমাণবিক উপাদান নিয়ে কথা বলছি, যা অশুভ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেত।’

রাফায়েল গ্রোসি আরও নিশ্চিত করেন যে, ওই উপাদানের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে সেগুলোকে আইএইএর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অধীনে আনা হবে।

নতুন সিরীয় সরকারের কূটনৈতিক প্রধান আসাদ আল-শাইবানি সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ১৭ জুলাই আইএইএকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে তারা স্বেচ্ছায় এই অঘোষিত পারমাণবিক উপাদানের উপস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করে, যা পতন হওয়া আসাদ সরকারের অশুভ উত্তরাধিকার।

কারিগরি মূল্যায়নের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে এই উপাদানগুলো কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করছে না এবং সিরীয় রাষ্ট্র ও আইএইএ যৌথভাবে এই উপাদানের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করবে।

২০০৭ সালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেইর এজোরের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে আইএইএ জানায় যে, স্থানটি উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় গোপনে নির্মিত একটি পারমাণবিক চুল্লি ছিল।

তবে ২০২৪ সালের শেষভাগে বাশার আল-আসাদের পতনের পর নতুন শাসকগোষ্ঠী দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে সিরিয়ার পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।