‘বড় শয়তান’ যাকে ঘৃণা করে তিনিই হচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হঠাৎ যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। এরপর থেকেই তার উত্তরসূরি কে হবেন এ নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে রোববার (৮ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আলী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ পর্ষদ প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে।
ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে একটি বিষয়ে সামান্য মতভেদ দেখা দিয়েছে। সেটি হলো, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সশরীর বৈঠকের মাধ্যমে নেওয়া বাধ্যতামূলক কি না, নাকি এমন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ঘোষণা করা সম্ভব।
এদিকে, পর্ষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে এখনও কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যেগুলোর সমাধান প্রয়োজন।
নূর নিউজ প্রকাশিত এক ভিডিওতে পর্ষদের আরেকজন সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসির জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সশরীর উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত ভোট দেওয়া সম্ভব নয়। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী একজন প্রার্থীকে বাছাই করা হয়েছে। পরামর্শটি ছিল—ইরানের শীর্ষ নেতাকে এমন হতে হবে, যাকে ‘শত্রুরা ঘৃণা করবে’, প্রশংসা নয়।
বাছাই করা উত্তরসূরি সম্পর্কে হায়দারি আলেকাসির বলেন, এমনকি ‘বড় শয়তান’ (যুক্তরাষ্ট্র) তার নাম উল্লেখ করেছে।
কয়েক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি তার কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য’ পছন্দ।
এদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তেহরান।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ নয় দিনে গড়িয়েছে। দিনদিন দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বাড়ছে। ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।