logo

ইরানকে উন্নত প্রযুক্তির ‘শাহেদ’ ড্রোন দিচ্ছে রাশিয়া

ইরানকে উন্নত প্রযুক্তির ‘শাহেদ’ ড্রোন দিচ্ছে রাশিয়া

ইরানে উন্নত প্রযুক্তির ‘শাহেদ’ ড্রোন পাঠাচ্ছে রাশিয়া। যার মধ্যে রয়েছে উন্নত সংস্করণের ড্রোন প্রযুক্তি, যে প্রযুক্তি মূলত তেহরানই মস্কোকে সরবরাহ করেছিল ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে করা একাধিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।

শনিবার (২৮ মার্চ) বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান আগে যে ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রযুক্তি মস্কোকে দিয়েছিল, রাশিয়া তা উন্নত করে এখন আবার তেহরানকে সরবরাহ করছে। এই উন্নত সংস্করণে উন্নত নেভিগেশনসহ বিভিন্ন সক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে।

ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এপি জানায়, চলতি মাসে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ড্রোন হস্তান্তর নিয়ে ‘খুব সক্রিয়’ আলোচনা হয়েছে। ড্রোনের চালান ইতোমধ্যে পথেও থাকতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সূত্রের দাবি, চলতি মাসে ড্রোন সরবরাহ নিয়ে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ‘খুব সক্রিয়’ আলোচনা হয়েছে। তবে এই সরবরাহ একবারের জন্য, নাকি ধারাবাহিকভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কত সংখ্যক ড্রোন পাঠানো হয়েছে, সেটিও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এ বিষয়ে একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা এপিকে বলেন, ‘সীমিত সংখ্যক ড্রোন যুদ্ধের ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে না।’

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েন্সলি দাবি করেছেন, অন্য কোনো দেশ থেকে ইরান যে সহায়তাই পাক না কেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সাফল্যে প্রভাব ফেলছে না। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ১৪০টির বেশি ইরানি নৌযান ধ্বংস করেছে, ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রের মতে, ড্রোনগুলো কীভাবে ইরানে পাঠানো হচ্ছে, তা নিশ্চিত নয়। তবে আজারবাইজান হয়ে রাশিয়া থেকে যে ট্রাক বহর ইরানে গেছে, তার মধ্যে ড্রোন থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়া এসব বহরকে মানবিক সহায়তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এদিকে রুশ কূটনীতিক দিমিত্রি সের্গেইভিচ পেসকভ এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সহযোগিতা বাড়লেও সম্পর্ক পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। অতীতে সংঘাতের সময় মস্কোর সীমিত সহায়তায় তেহরান অসন্তুষ্ট ছিল বলেও জানা গেছে।