logo

যে কারণে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

যে কারণে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

সংঘাত নিরসনে ইসলামাবাদ আলোচনায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। উভয় পক্ষের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক ম্যারাথন আলোচনার প্রথম পর্ব শেষে এই তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও ইরান বলছে, আলোচনার সাফল্য নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের সদিচ্ছার ওপর।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে পাকিস্তানের রাজধানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রায় তিন মিনিটের মতো কথা বলেন ভ্যান্স। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের মাত্র তিনটি প্রশ্নের জবাব দেন। ভ্যান্স দাবি করেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল ‘বেশ নমনীয় ও সহযোগিতাপূর্ণ’ ছিল এবং কিন্তু ইরান শর্তগুলো মানতে রাজি হয়নি।

একজন সাংবাদিক জানতে চান যে, আলোচনাটি কোনো ধরনের কাঠামো তৈরি করতে পেরেছে কি না এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে কি না। উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই সেই বিষয়গুলো উঠে এসেছিল। কিন্তু আবারও, আমরা এমন একটা পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে পারলাম না যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্ত মেনে নিতে রাজি হবে। আমার মনে হয়, আমরা বেশ নমনীয় ছিলাম। বেশ সহযোগিতাপূর্ণও ছিলাম।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের বলেছিলেন যে, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। আমরা তাই করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো অগ্রগতি করতে পারিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আলোচনায় যা কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছে, তার কারণ পাকিস্তানিরা নয়; তারা অসাধারণ কাজ করেছে এবং আমাদের ও ইরানিদের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সত্যিই সাহায্য করার চেষ্টা করেছে। আমরা ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করছি। ইরানিদের সঙ্গে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছি। এটাই সুসংবাদ।

তিনি বলেন, দুঃসংবাদটি হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি দুঃসংবাদ। সুতরাং, কোনো চুক্তিতে না পৌঁছেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ফিরে যাচ্ছি।

ভ্যান্স আরও বলেন, আমাদের অলঙ্ঘনীয় সীমাগুলো কী, কোন বিষয়গুলোতে আমরা তাদের সঙ্গে ছাড় দিতে রাজি এবং কোন বিষয়গুলোতে রাজি নই, তা আমরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি। আমরা বিষয়টি যতটা সম্ভব পরিষ্কার করে জানিয়েছি, কিন্তু তারা আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের কাছে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি’ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। ইরানিরা কী প্রত্যাখ্যান করেছে জানতে চাইলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি বিস্তারিত বলবেন না, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই নিশ্চয়তা চাইছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

তিনি বলেন, ‘সহজ কথা হলো, আমাদের একটি সক্রিয় প্রতিশ্রুতি দেখতে হবে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এ ছাড়া এমন কোনো সরঞ্জামও তৈরি করবে না, যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে সক্ষম করবে। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য ও এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেটাই অর্জন করার চেষ্টা করেছি।’

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আয়োজক পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সদিচ্ছা প্রদর্শনের জন্য আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা, অতিরিক্ত দাবি ও বেআইনি অনুরোধ থেকে বিরত থাকা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ মেনে নেওয়ার ওপর।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবির’ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের জন্য ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা ভেস্তে গেছে। ইরানি প্রতিনিধিদল ইরানি জনগণের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে একটানা ও নিবিড়ভাবে ২১ ঘণ্টা আলোচনা চালিয়েছে; ইরানি প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও, মার্কিন পক্ষের অযৌক্তিক দাবি আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা দিয়েছে।

আইআরআইবি টেলিগ্রামে জানিয়েছে, ‘এভাবেই আলোচনা শেষ হলো।’

ইরানি সূত্রগুলোর মতে, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৪ ঘণ্টার আলোচনার পর বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে খসড়া বিনিময় করছে। অনেকেই এতে আশা করেছেন, দুই পক্ষই একটি বৃহত্তর কাঠামোর বিষয়ে ইতোমধ্যে একমত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এখন পরবর্তী পদক্ষেপের বিস্তারিত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্সের এই বক্তব্য পূর্বের বলা ইতিবাচক পরিবেশের কথার সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে, আলোচনা ইতিবাচক দিকে মোড় নেওয়ায় সংলাপের সময়সীমা একদিন বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

সূত্র: গার্ডিয়ান, আলজাজিরা