নিহতের ৩৯ দিনেও হয়নি দাফন, আলী খামেনির জানাজা ঠিক কবে

ইরানে যৌথভাবে টানা ৩৯ দিন ধরে আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী তেহরানের পাস্তুর স্ট্রিট এলাকায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হামলা চালানো হয়। ওই হামলার আগে তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা থেকে শুরু করে গাড়ি পার্কিং, মোবাইল টাওয়ার, দেহরক্ষীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ নিরাপত্তা বলয় ঘিরে বছরের পর বছর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়েছে ইসরায়েল। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শেষমেষ সফল হয় মার্কিন-ইসরায়েল জোট।
বিমান হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরায়েল তাকে হত্যার দাবি জানায়। যদিও ইরান দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে চুপ ছিল। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ওই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান। এই শোক শেষ হতে বাকি আরও দুই দিন।
ঘোষণা করা হয় আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের স্থানক্ষণ। সংবাদ সংস্থা ফারস জানায়, ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে সুপ্রিম লিডারকে সমাহিত করা হবে। ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহর হচ্ছে তার জন্মস্থান। মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাবার সমাধিও রয়েছে। দাফনের আগে রাজধানী তেহরানে খামেনিকে শেষবিদায় জানাতে ‘বড়সড়’ আয়োজন করা হবে বলে ঘোষণা দেয় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলাস্থলেই মৃত্যু ধরে খামেনির প্রয়াণের ৩৯ দিন পেরিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত তার দাফনের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ প্রকাশ করা হয়নি। যদিও ইরান সরকার বলছে, ‘অভূতপূর্ব জনসমাগমের আশঙ্কার’ কারণে তার জানাজা ও জনসাধারণের সম্মান জানানোর অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে এই বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইরানেই। কারণ শিয়া মতাদর্শীদের রীতি অনুযায়ী, মৃত্যুর পর পরই মরদেহ দাফন করতে হয়। যদিও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোতে এ নিয়ে জল্পনার কমতি নেই।
তার মৃতুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় পরিবারের সঙ্গে তিনিও আহত হন। এরপর থেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোজতবা খামেনি। সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম ৫৬ বছর বয়সি তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েল।
সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, গুরুতর অসুস্থ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা অচেতন অবস্থায় পবিত্র নগরী কোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বর্তমানে দেশ পরিচালনার মতো অবস্থায় নেই।
গোয়েন্দা নথি অনুসারে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ দেশটির ধর্মীয় রাজধানী হিসেবে পরিচিত কোমে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোমে ‘একাধিক কবরের’ জন্য ‘একটি বড় সমাধিসৌধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ভিত্তি স্থাপনের’ প্রস্তুতি নিয়েছে। ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো প্রকাশ্য জানাজা অনুষ্ঠান লক্ষ্যবস্তু করবে পারে বলে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। তাই প্রয়াত সুপ্রিম লিডারের জন্য কোম অস্থায়ী সমাধিস্থল হতে পারবে কিনা, তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা তার পূর্বসূরি ও বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির দাফনের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নত হতে পারে। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর তার জানাজায় প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিল। আকাশপথে মরদেহ আনা মরদেহের চারপাশে মানুষের একটাই ভিড় জমেছিল যে, তার কফিন মোড়ানো কাফন ছিঁড়ে গেছিল। ইরানি কর্মকর্তারা খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানোর চেষ্টা করবেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বেসামরিকরা বা বেসামরিকের ছদ্মবেশে গোয়েন্দা এজেন্টরা জানাজা ও দাফন কাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি কবর ভাঙচুরের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।
তবে ইসরায়েলের ওই গোয়েন্দা নথিসহ ইরানি কর্তৃপক্ষের কোনো বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়নি, ঠিক কবে নাগাদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে। এমনকি বর্তমানে তার মরদেহ কোন অবস্থায় কোথায় সংরক্ষণ করা হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি ইসলামি প্রজাতন্ত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ তথ্য সীমান্তের বাইরে খুব কমই আসে। এই সুযোগে কয়েক দফা বর্তমান সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে নানা গুঞ্জন রটিয়েছে পশ্চিমা মিডিয়াগুলো।


