ইরানের শেষ দেখতে গোপনে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছে আরব মিত্ররা

ইরানে চলমান যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হতে চললেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বে উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।
আরব দেশগুলোর দাবি, এক মাসের বিমান হামলায় ইরান এখনও যথেষ্ট দুর্বল হয়নি এবং তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার এটাই ঐতিহাসিক সুযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) জানিয়েছে, উপসাগরীয় নেতারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপন আলোচনায় জানিয়েছেন, ইরানের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন বা তাদের আচরণে আমূল পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান বন্ধ করা উচিত হবে না। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ কথা জানিয়েছেন।
যুদ্ধের শুরুতে আকস্মিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কিছুটা ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন থাকলেও এখন সুর বদলেছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তার মিত্রদের এই সমর্থনের কথা গর্বভরে প্রচার করছেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সৌদি আরব, কাতার, ইউএই, কুয়েত ও বাহরাইন—সবাই এখন শক্তভাবে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। তারা আমাদের সঙ্গে আছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন বাহিনী ও ঘাঁটি রয়েছে, যেখান থেকে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এসব দেশ আক্রমণাত্মক অভিযানে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না।
আঞ্চলিক নেতারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করলেও এক উপসাগরীয় কূটনীতিকের ভাষ্যমতে, ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানোর পক্ষে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত।
উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরান থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হওয়া দেশটি এখন ইরানে স্থল অভিযানের পক্ষে সওয়াল করছে।
আর রিয়াদ মনে করছে, এখনই যুদ্ধ শেষ করলে কোনো ‘টেকসই সমাধান’ আসবে না। তারা চায় এমন একটি চুক্তি, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এদিকে কাতার ও ওমান ঐতিহাসিকভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা এই দুই দেশ এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই মত দিচ্ছে।
এদিকে ইরানও চুপ করে নেই। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালান, তবে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর পানি শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আক্রমণ করবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, তাদের লক্ষ্য কেবল মার্কিন বাহিনী, কোনো ‘আরব ভাই’ নয়। যদিও বাস্তবে অনেক বেসামরিক স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে দাবি করছেন ইরান আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, আবার অন্যদিকে যুদ্ধ আরও তীব্র করার হুমকি দিচ্ছেন। তবে নিজ দেশে এই যুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থন ধরে রাখা তার জন্য কঠিন হচ্ছে। কারণ, এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিও টালমাটাল হয়ে পড়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রধারী হতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্র একমত।