মার্কিন সাংবাদিকের ওপর ইসরায়েলি হামলায় ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ ওয়াশিংটন: রুবিও

অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক মার্কিন আলোকচিত্র সাংবাদিকের ওপর ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে ইসরায়েলকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
শনিবার সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, মার্কিন আলোকচিত্র সাংবাদিক হেইডি লেভিনের ওপর হামলার খবর পেয়ে ওয়াশিংটন ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছি এবং এখনও বলে যাচ্ছি।’
রুবিও আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে তিনি কোনো ধরনের উত্তেজনা বা নতুন সংকট দেখতে চান না।
ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দলের হামলার মধ্যে পড়ে মারধরের শিকার হন লেভিন।
ঘটনাটিকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে রুবিও বলেন, ‘ঘটনাটি মোটেও ভালো দেখায়নি।’
গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ট্রাম্প ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছিলেন। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে রুবিও বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট বর্তমানে ঘটে যাওয়া হামলাগুলোকে সমর্থন করেন।
তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি এখন টেলিভিশনে যা দেখছেন বা সংবাদমাধ্যমে যা পড়ছেন, সেটিকে সমর্থন করছেন।’
অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে সহিংসতার আশঙ্কাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ওয়াশিংটন। রুবিও জানান, ঐতিহ্যগতভাবে এ মৌসুমে ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। এ সময় লেবাননেও একই ধরনের উদ্বেগ দেখা দিতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে লেভিনের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে কারাগারে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘একজন নারী আলোকচিত্র সাংবাদিকের ওপর হামলা মুখোশধারী কাপুরুষদের চালানো ঘৃণ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’
তিনি আরও বলেন, নিরস্ত্র সাংবাদিককে যারা আক্রমণ করেছে, তাদের বছরের পর বছর কারাগারে থাকা উচিত। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি জানান তিনি।
শুক্রবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে বার্ষিক ফিলিস্তিনি জলপাই সংগ্রহের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন লেভিন। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন ফিলিস্তিনিও আক্রান্ত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল ওই এলাকায় ঢুকে লেভিনকে মারধর করে। এ সময় তার পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং ক্যামেরার সরঞ্জামও নিয়ে যাওয়া হয়।
হামলার বর্ণনা দিয়ে লেভিন বলেন, হামলাকারীরা বোতল ও গুলতি নিয়ে সজ্জিত ছিল। তিনি বলেন, ‘তারা প্রায় ১০ মিনিট ধরে আমাকে লাথি মারছিল। আমি আমার ক্যামেরা ও ব্যাগ আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম।’
