গোপনে ইরানকে ড্রোন, খাদ্য ও ওষুধ দিচ্ছে রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে রাশিয়া—এমনটি দাবি করে আসছিল মার্কিনিরা। তবে এবার একইসঙ্গে ড্রোন, খাদ্য ও ওষুধ সহায়তা দিচ্ছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মিত্র ইরানকে সহায়তা করতে রাশিয়া ড্রোন পাঠাচ্ছে। এই খবরটি এমন সময় এলো যখন মস্কোর বিরুদ্ধে তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৪ মার্চ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালাতে রাশিয়া যে ইরানকে সাহায্য করছে, তার ‘অকাট্য প্রমাণ’ কিয়েভের কাছে রয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত দুই কর্মকর্তা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর সমন্বিত হামলা শুরু করে, তার পরপরই রুশ ও ইরানি কর্মকর্তারা ড্রোন, ওষুধ ও খাদ্য সরবরাহের বিষয়ে গোপন আলোচনা শুরু করেন। মার্চের শুরু থেকে রাশিয়া ড্রোন পাঠানো শুরু করেছে এবং এই মাসের শেষ নাগাদ এই চালান সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ড্রোন পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, বর্তমানে অনেক ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে। তবে একটি বিষয় সত্য—আমরা ইরানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছি।
যদি এই ড্রোন সরবরাহের খবর সত্য হয়, তবে এটি হবে চলমান চার সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধে ইরানের প্রতি রাশিয়ার প্রথম সরাসরি সামরিক সহায়তা।
এদিকে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ নিশ্চিত করেছেন, ইরান রাশিয়ার কাছে গোয়েন্দা তথ্য চেয়েছে, তবে রাশিয়া তা প্রদান করেছে কি না সে বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দাবিগুলোকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করা হলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা আঘাত হানার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতায় কোনো বিশেষ পার্থক্য তৈরি করবে না।
গত কয়েক বছরে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের সময়। সেই সময়ে তেহরান রুশ বাহিনীকে ড্রোন এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল। রাশিয়া নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাতে শত শত শাহেদ ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনের বেলায় একসঙ্গে ৫০০-এর বেশি কামিকাজে ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, ইউক্রেন এখন ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় এতটাই দক্ষ হয়ে উঠেছে যে, কিয়েভ এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে তাদের এই অভিজ্ঞতা বা বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জেলেনস্কি লিখেছেন, আমরা মধ্যপ্রাচ্য এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছি, যারা এখন ড্রোন প্রতিরোধে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছি, এই অঞ্চলে কেবল শাহেদ ড্রোনই ব্যবহৃত হচ্ছে না, বরং এফপিভি ড্রোনের ব্যবহারের প্রমাণও রয়েছে। এটিই আধুনিক যুদ্ধ এবং আমাদের এর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। ইউক্রেনের এই দক্ষতা রয়েছে এবং আমাদের সমর্থনের বিনিময়ে এমন কিছু ক্ষেত্রে সাহায্য প্রয়োজন, যেখানে আমরা বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি।