এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তাঁর মেয়ে কিম জু এ-কে সঙ্গে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারকারী একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা উড্ডয়নের সময় এর গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দাবি করেছেন, এআই প্রযুক্তির কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটি কম উচ্চতায় নিজের উড্ডয়নপথ পরিবর্তন করতে পারে, ফলে এটি প্রতিহত করা কঠিন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ভোরে পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসানের আশপাশের একটি এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির ধরন ও পরীক্ষার অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য দক্ষিণ কোরিয়া প্রকাশ করেনি।
পরীক্ষা শেষে কিম জং উন বলেন, এদিনের মহড়ার মাধ্যমে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সদস্যরা তাদের পেশাগত সক্ষমতা এবং পাল্টা হামলার প্রস্তুতি প্রদর্শন করেছেন।
তিনি বলেন, “শত্রুকে আমাদের কৌশলগত আক্রমণাত্মক সক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা ও প্রাণঘাতী ক্ষমতা বারবার উপলব্ধি করাতে আমাদের দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।”
কেসিএনএর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে ওঠার সময় প্রচণ্ড কমলা রঙের আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ছে। অন্য একটি ছবিতে কিম জং উনকে তাঁর মেয়ে জু এ এবং স্ত্রী রি সল জুর পাশে দাঁড়িয়ে হাসতে দেখা যায়। রি সল জুকে হাততালি দিতেও দেখা যায়।
২০২২ সালে প্রথমবার জনসমক্ষে আসার পর থেকে জু এ উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক অনুষ্ঠানে ক্রমেই বেশি উপস্থিত হচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মতে, কিম জং উনের উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
কেসিএনএ জানিয়েছে, সেনাদের “হাইপারসনিক কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা” পরিচালনার প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এবারের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সীমান্তবর্তী নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড)-এ বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল। ওই বিস্ফোরণে তিনজন দক্ষিণ কোরীয় সেনা আহত হন। তবে পিয়ংইয়ং এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে।
শুক্রবার উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে “জঘন্য” বলে আখ্যা দেয়। এর ফলে দুই কোরিয়ার মধ্যে সংলাপ পুনরায় শুরুর জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বেসামরিক সরকারের নেওয়া উদ্যোগ আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
