logo

ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার মুখে আল-আকসার বাইরে ঈদের জামাত করবেন ফিলিস্তিনিরা 

ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার মুখে আল-আকসার বাইরে ঈদের জামাত করবেন ফিলিস্তিনিরা 

আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এর প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের ইসলামি ওয়াকফ বিভাগের সদস্য ও আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ একরিমা সাঈদ সাবরি মুসল্লিদের নির্দশনা জারি করেছেন। আল-আকসা মসজিদের ভেতরে ঢুকতে না পারলেও এর নিকটতম অবস্থানে দাঁড়িয়ে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের জন্য সব মুসলমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

বুধবার (১৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। 

শেখ সাবরির আইনজীবী খালেদ জাবারকা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ইরান যুদ্ধের দোহাই দিয়ে আল-আকসা বন্ধ রাখা মূলত ইসরায়েলের একটি রাজনৈতিক চাল। তার দাবি, ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আল-আকসা মসজিদকে ইহুদীকরণের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চায় ইসরায়েল। জীবন রক্ষার দোহাই দিয়ে নিরাপত্তা অজুহাত দেখানোকে তিনি ‘বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন।

আল-আকসা মসজিদ (যাকে ইহুদিরা টেম্পল মাউন্ট মনে করে) অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের একটি দীর্ঘকালীন সংঘাতময় স্থান। যদিও প্রধান র‍্যাবাইনেটের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ছিল, ধর্মীয় নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ইহুদিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে কিছু ইহুদি গোষ্ঠী সেখানে প্রার্থনা এবং এমনকি ‘তৃতীয় মন্দির’ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছেন, মুসলিমদের প্রবেশে বাধা দেওয়া মূলত ইহুদি উপাসনা বৃদ্ধি এবং মসজিদটি আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার একটি পূর্বলক্ষণ।

সোমবার (১৮ মার্চ) মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে জানায়, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা এই মসজিদটিতে এবারই প্রথম রমজান মাসে ফিলিস্তিনিরা জুমার নামাজ আদায় করতে পারেনি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ইসলামি ওয়াকফ বিভাগকে জানিয়ে দিয়েছে, ঈদুল ফিতরের দিনেও মসজিদটি সাধারণ মুসল্লিদের জন্য বন্ধ রাখা হবে। বর্তমানে ৪ হাজার একর আয়তনের এই চত্বরে প্রতি শিফটে মাত্র ২৫ জন ওয়াকফ কর্মীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বলে মসজিদ বন্ধ রাখায় গত সপ্তাহে আটটি মুসলিম প্রধান দেশ ইসরায়েলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট করেছে, আল-আকসার ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। এদিকে, ওল্ড সিটিতে ব্যাপক সেনা মোতায়েন সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিরা প্রতি রাতে মসজিদের কাছে জড়ো হয়ে ইবাদতের চেষ্টা করছে, যা প্রায়ই ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।

শেখ একরিমা সাবরি তার দেওয়া নির্দেশনা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মসজিদের ঠিক বাইরে বা নিকটবর্তী স্থানে নামাজ পড়লে তা আল-আকসার ভেতরে নামাজ পড়ার সমান সওয়াব বহন করবে। এই আহ্বান ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে প্রতিরোধের উদ্দীপনা তৈরি করেছে। ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছেন, মুসলিমদের প্রবেশে এই দীর্ঘমেয়াদি বাধা মূলত মসজিদটি ধ্বংস করে সেখানে ‘তৃতীয় মন্দির’ নির্মাণের ইহুদি পরিকল্পনারই অংশ।