নেপালে বন্যার আগে সেই হিমবাহ ধসের মুহূর্ত ধরা পড়ল ড্রোন ফুটেজে

নেপালে ভয়াবহ বন্যার আগে হিমবাহ ও পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ড্রোনের ক্যামেরায়। চীনের এক আলোকচিত্রীর ড্রোনে ধারণ করা ওই ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, লাংটাং লিরুং পর্বতের কাছে পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর ও হিমবাহের বরফ একসঙ্গে ভেঙে নিচে নেমে আসছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ২০০ মিটারের বেশি উচ্চতার এই পর্বতশৃঙ্গের ঢাল থেকে ধস নামার পর পাহাড়জুড়ে ধুলার বিশাল মেঘ তৈরি হয়।
পরে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচের উপত্যকায় আছড়ে পড়ে। এতে ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ২৬ আগস্টের ওই দুর্যোগে নেপালে ৯০৩ ও তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নেপালে এখনো ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই নেপালের বলে জানানো হয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অকল্পনীয় ও হৃদয়বিদারক’ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
A Chinese photographer accidentally captured the catastrophic avalanche on Mount Lamtang in Nepal during a drone shoot.
— Massimo (@Rainmaker1973) August 28, 2026
[📹 HeyMu. Travel] pic.twitter.com/rgWylkezSC
রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রাসুয়া এলাকায় ভোতে কোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি, সম্পদ ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম ভূখণ্ড এবং চলমান ঝুঁকির কারণে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বালেন্দ্র শাহ বলেন, নাগরিকদের জীবন রক্ষায় সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
হিমবাহ ও পাহাড়ধসের ঘটনা বাড়ছে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমবাহ, বরফ ও পাহাড়ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
২০২১ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডে রন্তি শৃঙ্গ থেকে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট পাথর ও বরফ ধসে পড়ে। এতে একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয় এবং প্রায় ২০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন।
২০২৩ সালে ভারতের সিকিমে দক্ষিণ লোনাক হ্রদে পারমাফ্রস্ট গলে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে হ্রদের পানি আটকে রাখা প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়। বন্যার পানিতে কয়েকটি বাঁধ, ২৫ হাজারের বেশি ভবন ও ৩০টির বেশি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের আল্পস অঞ্চলে বার্চ হিমবাহ থেকে প্রায় ৩৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট পাথর ও বরফ ধসে পড়ে। এতে ব্লাটেন গ্রামের বেশির ভাগ অংশ চাপা পড়ে যায়।



