logo

বিশ্ববাজারে টানা দুই দিন কমলো জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে টানা দুই দিন কমলো জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পুনরায় আলোচনায় ফিরতে পারে এমন খবরে বুধবার (১৫ এপ্রিল) তেলের বাজারে কিছুটা আশার সঞ্চার দেখা গেছে। 

বার্তা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। একদিকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পুনরায় আলোচনার খবর তেলের বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার সকালে বাজার শুরুর দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪০ সেন্ট বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৫ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২৩ সেন্ট কমে ৯১ দশমিক ০৫ ডলারে নেমেছে। 

বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা একদিকে যুদ্ধের অনিশ্চয়তা এবং অন্যদিকে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরের মধ্যে দুলছেন। ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সুভ্রো সরকার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি উন্নতির চেয়ে এখন লোকমুখে শোনা খবরের ওপর ভিত্তি করে বাজার ওঠানামা করছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আগে প্রতিদিন যেকানে এই পথে ১৩০টির মতো জাহাজ চলাচল করত সেখানে তা হাতেগোনা কয়েকটিতে নেমে এসেছে। এর ফলে এশিয়া ও ইউরোপের শোধনাগারগুলো বিকল্প উৎসের জন্য হাহাকার করছে। আমেরিকার উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল কিনতে এখন পরিশোধনাগারগুলো রেকর্ড পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ গুনছে। রটারডামে সরবরাহের জন্য তেলের এক একটি কার্গো এখন বেঞ্চমার্ক মূল্যের চেয়ে ২২ ডলারেরও বেশি অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হতে পারে। গত সপ্তাহের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে যে অবরোধ দিয়েছিল, তা এখনও বলবৎ রয়েছে। এমনকি মঙ্গলবারও একটি যুদ্ধজাহাজ ইরান থেকে তেল নিয়ে বের হওয়া দুটি বড় ট্যাংকারকে মাঝপথে আটকে দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সমুদ্রে ভাসমান ইরানি তেলের ওপর থাকা অস্থায়ী ছাড় এই সপ্তাহেই শেষ হচ্ছে এবং ওয়াশিংটন তা আর নবায়ন করবে না। রুশ তেলের ওপর থাকা একই ধরনের ছাড়ও গত সপ্তাহে বাতিল করা হয়েছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।

আজ ইউএস ইনভেন্টরির প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। যদি আমেরিকার নিজস্ব মজুত প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়, তবে তেলের দাম আবারও আকাশচুম্বী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আপাতত সবার নজর আগামী দুই দিনের পাকিস্তান বৈঠকের দিকে।