প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এখনই হাল ছাড়ছে না পাকিস্তান

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে দুই পক্ষকে আলোচনায় বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। বহুল প্রতিক্ষিত সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো মীমাংসা ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার ফলাফল আশাব্যঞ্জক না হলেও পাকিস্তান এখনই হাল ছাড়ছে না বলে মনে করেন পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাংক সনোবর ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কামার চিমা।
রোববার (১২ এপ্রিল) আল জাজিরাকে চিমা বলেন, ‘গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে এই আলোচনা ছিল সবচেয়ে সিরিয়াস প্রচেষ্টা।’
তিনি জানান, ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। ইরানি প্রতিনিধি দল এখন তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে এই প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তেহরানের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা নিহত হওয়ার পর বর্তমান নেতৃত্বের অনেক সদস্যই এই প্রক্রিয়ায় নতুন।
পাকিস্তানের ভূমিকা সম্পর্কে চিমা বলেন, ‘পাকিস্তানের কাজ ছিল তাদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা, দুই পক্ষের দূরত্ব ঘুচিয়ে আস্থার পুনর্গঠন করা। পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালন করেছে এবং এর ফলে দেশটি এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাচ্ছে। উভয় পক্ষই পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, এই আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে। আপাতত এটিই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং পাকিস্তান আশাবাদী যে, প্রস্তাবিত বিষয়গুলো নিয়ে শীঘ্রই উভয় পক্ষ আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে।’
এদিকে, কোনো সমঝোতা ছাড়াই দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা শেষ হয়েছে। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরপরই এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাস্ট দ্য নিউজের একটি নিবন্ধ শেয়ার করেন ট্রাম্প। পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে পাল্টা অবরোধ আরোপ করতে পারে। ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল প্রয়োগ করে মার্কিন নৌবাহিনী এখন খুব সহজেই এই প্রণালির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
এর আগে গত শনিবার এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, চীন, জাপান ও জার্মানির মতো দেশগুলোর ওপর ‘করুণা’ করে যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকা থেকে মাইন অপসারণ শুরু করেছে। কারণ ওই দেশগুলোর এই কাজ করার মতো সাহস নেই।
এদিকে ইসলামাবাদে লম্বা বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাবটি টেবিলে তুলেছি এবং যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়েছি। এখন দেখার বিষয় ইরান এটি গ্রহণ করে কি না।’
অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধিদল এই বৈঠককে ‘অবিশ্বাসের পরিবেশে’ হওয়া আলোচনা বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে নমনীয়তার যে দাবি করছে তা ভিত্তিহীন।
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিই এখন দুই দেশের সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা চলাকালীন মার্কিন কয়েকটি রণতরি প্রণালিটি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে।
ইরান এই দাবি অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি জাহাজ এই জলসীমায় প্রবেশ করলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।