জ্বালানি সংকটে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড রুটে ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে এবার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথেও। বিমানের জ্বালানির লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও তীব্র সংকটের কারণে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড রুটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ কিছু পরিষেবাও কাটছাঁট করা হয়েছে নিউজিল্যান্ডে।
বুধবার (২৫ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদাধ্যম বিবিসি।
জেটস্টার নিউজিল্যান্ড এয়ারলাইন সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী মে মাসে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ১২ শতাংশই বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে অকল্যান্ড থেকে ক্রাইস্টচার্চ ও ওয়েলিংটনের মতো অভ্যন্তরীণ রুট এবং সিডনি ও ব্রিসবেনের মতো আন্তর্জাতিক রুটগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। যদিও সংস্থাটি দাবি করেছে, তারা অধিকাংশ যাত্রীকে একই দিনে বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছে।
সংস্থার এক মুখপাত্র বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাবে বিমানের জ্বালানির দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। পরিচালনা ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় আমরা সাময়িকভাবে ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছি। অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির জন্য যাত্রীদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, জ্বালানি সংকটের এই ঢেউ কেবল অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডেই সীমাবদ্ধ নেই। সোমবার (২৩ মার্চ) ভিয়েতনাম এয়ারলাইনস জ্বালানি ঘাটতি ও উচ্চমূল্যের কারণে সপ্তাহে প্রায় দুই ডজন অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। একই পথে হাঁটছে মিয়ানমারের বিমান সংস্থাগুলোও। তারা তাদের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত প্রথম কোনো দেশ হিসেবে স্লোভেনিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি রেশনিং বা তেল বিক্রিতে সীমাবদ্ধতা জারি করা হয়েছে। তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে দেশটির সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
স্লোভেনিয়া সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির কোনো চালক এক দিনে ৫০ লিটারের বেশি জ্বালানি কিনতে পারবেন না। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ মজুত ধরে রাখতে এই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
স্লোভেনিয়ায় জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে ‘ফুয়েল ট্যুরিজম’ বা জ্বালানি পর্যটন নামক এক নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির নাগরিকরা পেট্রোল এবং ডিজেলের অপেক্ষাকৃত কম দামের সুযোগ নিতে প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রিয়ায় ভ্রমণ করছেন।