ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়া প্যাসিফিকের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে চলতি বছরের বাকি সময়ে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ ছাড়া এসব অঞ্চলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ারও সতর্কতা দিয়েছে তারা।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিত সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা এই সংঘাতকে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা বলে আখ্যায়িত করেন।
এডিবির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি এই শত্রুতা বা সংঘাত বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে এশিয়া প্যাসিফিকের প্রবৃদ্ধি গত বছরের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। সেই সঙ্গে ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা গত বছর ছিল ৩ শতাংশ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছেই। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে ইরান। পাশাপাশি পরমাণু কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটি। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি বলেছেন, ‘দেশের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কমানো হবে না।’
এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘কথার ফুলঝুরি যতই হোক, মূল কথা হলো, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না এবং হরমুজ প্রণালি খোলা ও নিরাপদ রাখা হবে। আমাদের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত আছে ও বিশ্রাম নিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তারা পরবর্তী সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করছে।’
বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এক চুক্তিতে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। লেবাননে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি চুক্তি যে কোনো সময় ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমতাবস্থায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে ইরানে পুনরায় কিন্তু আগের তুলনায় অত্যন্ত শক্তিশালী হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারা জানিয়েছে, চুক্তি সম্পূর্ণরূপে পালিত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সামকির বাহিনী ইরান ও তার আশপাশে অবস্থান করবে।
বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘প্রকৃত চুক্তি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলা না হলে ইরান ও তার আশপাশে মার্কিন সামরিক বাহিনী অবস্থান করবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে মার্কিন জাহাজ, বিমান ও সামরিক কর্মী। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত গোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র।’
যে কোনো সময় চুক্তিটি ভেস্তে যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি অনুসরণ না করার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। যদি কোনো কারণে তা না হয়, তাহলে দুলর্ভ ও আগের তুলনায় অত্যন্ত শক্তিশালী গোলাগুলি শুরু হবে।’
যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তমতো হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় আবারো সমুদ্রপথটি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বৈশ্বিক জাহাজ-ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে কোনো তেল বা গ্যাস ট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করেনি। তবে চারটি বাল্ক ক্যারিয়ার অর্থাৎ শুষ্ক পণ্যবাহী জাহাজ পার হতে পেরেছে।
ইরানের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রণালিটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি ট্যাংকারকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনগুলোর পর থেকে কোনো জাহাজকে প্রণালিটি অতিক্রম করতে দেখা যায়নি।