logo

সংলাপ ও পরামর্শের মাধ্যমেই আফগানিস্তান-পাকিস্তান ইস্যুর সমাধান সম্ভব: চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সংলাপ ও পরামর্শের মাধ্যমেই আফগানিস্তান-পাকিস্তান ইস্যুর সমাধান সম্ভব: চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সমস্যা কেবল সংলাপ ও পরামর্শের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির অনুরোধে অনুষ্ঠিত এক ফোনালাপে তিনি এ কথা বলেন। 

ওয়াং ই বলেন, শক্তি প্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং দ্বন্দ্বকে তীব্র করবে। এতে কোনো পক্ষই উপকৃত হবে না, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।

এ সময় আমির খান মুত্তাকি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা নিরসনে চীনের সক্রিয় মধ্যস্থতামূলক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কষ্ট সহ্য করা আফগান জনগণ এখন শান্তি ও উন্নয়নের সুযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সমস্যা কেবল সংলাপ ও পরামর্শের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

তিনি আরও জানান, আফগানিস্তান আঞ্চলিক অস্থিরতার উৎস নয়, বরং শান্তির উৎস হতে চায়। পাশাপাশি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আফগান ভূখণ্ড কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশ অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়াতে চায় না এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে আগ্রহী।

অন্যদিকে ওয়াং ই বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই অস্থির হোক না কেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান অবিচ্ছেদ্য প্রতিবেশী, যাদের একে অপরের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান অপরিহার্য।

তিনি বলেন, আফগানিস্তান-পাকিস্তান ইস্যুতে চীন সবসময়ই নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান বজায় রেখেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ দূত বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ওয়াং ই আশা প্রকাশ করেন, দুই পক্ষ শান্ত ও সংযত থেকে দ্রুত সরাসরি আলোচনায় বসবে, যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাবে এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করবে।

তিনি বলেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতা ও উত্তেজনা প্রশমনে চীন ভবিষ্যতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।